ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধের দাবিতে অনলাইন পিটিশন, টিউলিপ সিদ্দিক এর নিন্দা

tiulip Trampঅনলাইন রিপোর্টঃ ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্ডিনো শহরের একটি প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে গুলি চালিয়ে ১৪জনকে হত্যার ঘটনায় যে তরুণ দম্পতিকে দায়ী করা হচ্ছে, তারা দুজনেই মুসলিম। তারা দুজনেই আইএস-এর অনুসারী ছিলেন বলে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি দল আইএস দাবি করেছে। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়ই মুসলিমদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান ট্রাম্প। এমন দাবি তুলে ট্রাম্প নিজ দেশ, নিজ দল, বিরোধী দল, বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ, এমনকি ব্রিটেনেও নিন্দা-সমালোচনার শিকার হচ্ছেন ।
মুসলিম বিদ্বেষী মন্তব্য করার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনলাইনে একটি পিটিশনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ট্রাম্পকে ইউকেতে নিষিদ্ধ করার দাবীতে করা অনলাইন পিটিশনে ৩শ হাজারের ও বেশী মানুষ ইতমধ্যে স্বাক্ষর করেছেন।

পিটিশনে বলা হয়, ঘৃণা ছড়ানোর বক্তব্য দেয়ার জন্য যুক্তরাজ্য এ পর্যন্ত দেশে অনেক মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। সেই একই নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও প্রয়োগ করতে হবে। ট্রাম্প যেন যুক্তরাজ্যের মাটিতে পা রাখতে না পারেন। তাকে এ মাটিতে নিষিদ্ধ করতে হবে।
ব্রিটেনে কারো আচরণ গ্রহণযোগ্য না বলে গণ্য হলে, দেশে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। অতীতেও ঘৃণা ছড়ায় কিংবা আন্ত-সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উস্কে দেয় এমন বক্তব্যের জন্য যুক্তরাজ্যে মানুষজনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের মুখপাত্র মঙ্গলবার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের মন্তব্যকে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী, বিদ্বেষমূলক এবং ভুল বক্তব্য বলেই মনে করেন।

উল্লেখ্য ১০ হাজারের বেশি মানুষের সই করা পিটিশনে সাড়া দেয় ব্রিটিশ সরকার। আর সইয়ের সংখ্যা ১ লাখে পৌঁছলে সে বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্ক করার কথা বিবেচনা করা হয়। এ হিসেবে অবশ্যই ব্রিটেনের পার্লামেন্টে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। এর ফর নিষিদ্ধ হতে পারেন তিনি।

অন্যদিকে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে ব্রিটিশ বাংলাদেশী এমপি বঙ্গবন্ধুর নাতনী টিউলিপ সিদ্দিক ট্রাম্প এর এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান ” আমি যদি পারতাম তাহলে তাঁকে ব্রিটেনে নিষিদ্ধ করতাম। আমরা যখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধ্বে লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ্ব করেছি তখন তিনি সেটাকে উসকে দিচ্ছেন। তিনি যোগ করেন, আমার কাজিনরা আমেরিকায় থাকে এবং তাঁরা আমেরিকার নাগরিক । ট্রাম্পের কথা অনুসারে আমি আমার ধর্মের কারণে কাজিনদের সাথে দেখা করতে আমেরিকা যেতে পারব না। ট্রাম্পের মন্তব্যকে শুধু অসৌজন্যমূলক বলব না, এটা রীতিমত বিরক্তিকর । যে মানুষটি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধরের আসনে বসতে চায় তিনি কিভাবে এধরনের একটি মন্তব্য করতে পারেন?

Share This Post

Post Comment