রিয়াজুল আলম :বাংলাদেশের যুদ্ধজয়ের এক নেপথ্য নায়ক

1017741_10203673123451389_3406245245571537591_n[1]উজ্জ্বল দাশঃ যাঁর দেয়া খবরের উপর ভিত্তি করে পাকিস্তানী শিবিরে শেষ পেরেক ঠুকে দেয় ভারতীয় মিত্র বাহিনী তিনি রিয়াজুল আলম। পাকিস্তানীদের যুদ্ধ চালানোর বিপুল পরিমান রসদ উড়িয়ে দেয়ার মূল অস্ত্রটি ছিল রিয়াজুলের হাতে। বিজয়ের দিন ঘনিয়ে আসে, তরান্বিত হয় হানাদার বাহিনীর আত্মসমার্পণের দিন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুদীর্ঘকালের সহযাত্রী সাবেক ভারতীয় কুটনৈতিক শশাংক ব্যানার্জির ইন্ডিয়া, মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ লিবারেশন এন্ড পাকিস্থান বইয়ে প্রথম স্থান পায় রিয়াজুলের রীরত্বগাথা। শশাংক ব্যানার্জি ও রিয়াজুল আলম  থাকেন লন্ডনে। দুজনের বাড়িতে বসেই শুনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিস্ময়কর অজানা গল্প।

গল্পের শুরুতে রিয়াজুল আলম বললেন, স্বাধীনতাকামী বাঙালির মুক্তির মিছিলে শরিক হয়েছেন দেশে বিদেশে থাকা বাঙালিরা। শশাংক ব্যানার্জি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী বিশেষ একজন সহযোদ্ধা। কুটনৈতিক হওয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ কিংবা জানাতে পেশাগত সীমাবদ্ধতা ছিল। ২০০৮ সালে তাঁর নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বইটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আমার ভূমিকার  বিষয়টি উল্লেখ করায় আমি আজ বলতে পারছি। তার আগে আমার বলাটা পাগলের প্রলাপ হিসেবেই বিবেচিত হতো।  একটা অস্বাভাবিক মুহুর্তেই রিয়াজুল দেশ ছেড়েছিলেন। পূর্ব পাকিস্থানের চারদিকে বৈষম্য, রুদ্ধ স্বাধীকার। পারিবারিকভাবেই রাজনৈতিক পরিমন্ডলে তাঁর বেড়ে উঠা। ঠাঁকুরগাঁও স্কুল থেকে মেট্রিক, দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে ডিগ্রী পাস। তিনি বলনে, কলেজ পড়া অবস্থায় যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে ছাত্রকর্মী হিসেবে যোগ দিই। দিনাজপুর ছাত্র ইউনিয়নের একসময় সহসভাপতি ছিলাম। কেন্দ্রীয় যুবলীগের ততকালীন সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ সুলতানের অনুপ্রেরণায় ঢাকায় ন্যাপ গঠনের সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিয়েছিলাম। সম্মেলনে আসা বাপন্থী নেতা খান আবদুল গাফ্ফার খান, মিয়া ইফতেখার উদ্দিন, আব্দুস সামাদ আচাকদাই, আবদুল মজিদ সিন্ধী, মুহম্মদ কাসুরী আর মাহমুদ খান জানজুয়াসহ অতিথিদের দেখাশোনার দায়িত্ব পরেছিল আমার উপর। মোটকথাএকটু ইংরেজি বলতে পারায় আমি তাদের কাছে আসার সুযোগ

টি পেয়েছিলাম।   এদিকে, সম্মেলনে দেখা হওয়া পরিচিতজনের সহযোগিতায় ট্রাভেলগ নামের একটা ট্রাভেল এজেন্সীতে কাজ পেয়ে গেলেন রিয়াজলু। যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা বেড়েছে। নাম উঠেছে পুলিশের খাতায়।১৯৫৮ সাল আইয়ুব খানের মার্শাল ল চলছে।

ধরপাকড়ের রাতে অফিস থেকে কয়েকদিন ছুটি নিলেন তিনি। বললেন, পুলিশের খাতায় নাম, দেশ থেকে পালানোর সুযোগ ছিলনা। আর ইচ্ছে থাকলেও পাসপোর্ট পাওয়া যাবেনা পুলিশি তদন্ত ছাড়া। আমার সংকটময় অবস্থা দেখে পাশে দাঁড়ালেন স্ক্যান্ডেনেভিয়ান এয়ারলাইনসের পরিচিত ড্যানিশ ম্যানেজার সরেনসান। ট্রাভেলগে চাকুরির সুবাদে দেশের বাইরে শর্ট ট্রিপের ব্যবস্থা হয়ে গেল। আর জরুরী দেখিয়ে পুলিশি তদন্ত ছাড়া পাসপোর্টের ব্যবস্থা করে দিলেন এস এম নূর নামের পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা। নানান প্রতিবন্ধকতার মাঝে ১৯৬০ সালে দেশ ছেড়ে লন্ডনে পৌছান রিয়াজুল। ট্রাভেল এজেন্সীর কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ খুঁজছেন। দেশ থেকে সাথে নিয়ে আসা টাকাও শেষের পথে। একদিন কাশ্মীরি ভদ্রলোক রিয়াজুল আলমকে জানালেন, জানজুয়া নামের একজন আছেন দেখা করলে ট্রাভেল এজেন্সীর কাজ জুটে যেতে পারে! লন্ডনে পাকিস্থান এয়ারলাইনসে প্রধান হিসেবে কাজ করছেন জানজুয়া। যার সাথে রিয়াজুলে দেখা হয়েছিল ঢাকায় ন্যাপ সম্মেলনে।

বামপন্থী রাজনীতিক মাহমুদ খান জানজুয়ার সাথেই দেখা করলেন রিয়াজুল। জানজুয়া ঠিক তাঁকেমনে রেখেছেন। পরের সপ্তাহে পাকিস্থান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) সেলস এন্ড মার্কেটিং বিভাগেচাকুরি হয়ে গেল তাঁর।  চাকুরির পাশাপাশি কস্ট আকাউন্টিং পড়তে ভর্তি হলেন রিয়াজুল। ’পাকিস্থান হাউস’ তখন পশ্চিম পাকিস্তানীদের দখলেই বলা চলে। বাঙালিদের থাকার সুযোগ দিতে নানা টালবাহানা।পূর্ব পাকিস্থান থেকে বিলেতে পড়তে আসা ছাত্রদের নিয়ে ওই হাউসের পাশেই তাঁরাগড়ে তুললেন’ পূর্ব বাংলা হাউস’। স্বাধীনতার পর পূর্ববাংলা হাউসকে দলিল হস্তান্তর করেছিল পাকিস্থান হাউস। প্রতিবাদী রিয়াজুলের বামঘেঁষা কর্মকান্ড চলতে থাকে। বাঙালি চেতনার বাইরেও তার বিস্তার পায় দিনদিন। রিয়াজুল আলম বলছিলেন, কমিউনিটি ফর নিউক্লিয়ার ডিসআর্মানেন্ট এর প্রতিবাদ মিছিলে লন্ডনে খ্যাতনামা দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের সাথে হাঁটার স্মৃতি তাকে এখনও উজ্জীবিত করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ বৈষম্যের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সরাসরি যুক্ত ছিলাম। মোদ্দাকথা, নানা দেশ থেকে বাম রাজনীতির কারণে দেশত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে সম্পৃক্ততা বেড়ে যায়।

২৬শে মার্চ ১৯৭১। সব হিসেব বদলে গেল রিয়াজুল আলমের। তিনি বলছিলেন, পাকিস্তান এয়ারলাইন্সের কাজ ছেড়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের জনমত সংগ্রহের কাজে যোগ দেব বলে মনস্থির করি। এরই মাঝে খবর পাই বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী লন্ডনে বাংলাদেশের পক্ষে নানামূখী পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছেন। দেরি না করে সাঈদ চৌধুরীর সাথে দেখা করে তাঁর কাছে পরামর্শ চাইলাম। আমার কাছ থেকে সবকিছু শুনে সাঈদ চৌধুরী বলেন, পাকিস্থান এয়ারলাইন্সের চাকরিটা ছেড়োনা, কামড় খেয়ে পরে থাকো। একসময় আমাদের খুবইকাজে লাগবে। সতর্কতার সাথে খবর সংগ্রহের চেষ্টা যেন অব্যাহত রাখি।  এরই মাঝে বিচারপতি চৌধুরী ভারতীয় দুতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা শশাংক ব্যানার্জির সাথে রিয়াজুল আলমকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। যেকোন বিশেষ তথ্য তাঁকে দেয়ার জন্য। অন্যদিকেভারতীয় সাংবাদিক তারাপদ বসুর সাথে তাঁর পরিচয় ছিল আগে থেকেই। খবর সংগ্রহে রিয়াজুল আলম তার কাছেও সহযোগিতা পেলেন। প্রতি ফ্লাইটে দুইশো সৈন্য পাকিস্থানে যাচ্ছে অফিসে আসা ট্যালেক্স থেকে জানালেন রিয়াজুল। ইতিলিয়ান এয়ারলাইন্সের মিলানে কর্মরত এক ভারতীয় বন্ধু জানালেনপাকিস্থান ইতালির তুরিন শহর থেকে যুদ্ধবিমান, এন্টি ট্যাঙ্ক মর্টার কিনছে আর এসব রসদ পাঠানো হচ্ছে করাচীর কাছে নওয়াব শাহ বিমানবন্দরে। খবরের আদান প্রদান সতর্কতার সাথে চালিয়ে যাচ্চিছলেন রিয়াজুল।

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ, একটা জরুরী ট্যালেক্স প্রত্যাশা করছিলেন রিয়াজুল। বললেন,বিপত্তি হল পাকিস্থান সময় ভোর ছয়টা আর লন্ডন সময় রাত দুইটায় তার কাঙ্খিত ট্যালেক্স আসার কথা। ওইদিন আমার ডিউটি ছিলনা। উতকণ্ঠায় কাটছে সময়, বার্তাটি কোনভাবেই হাতছাড়া করা যাবেনা। ইচ্ছে করে দিনের ফ্লাইট মুভমেন্ট শিট পাঠাইনি, একটা অজুহাত তৈরী রাখলাম। সাহস করে রাত দুটায় অফিসের তালা খুলে ভেতরে ঢোকার পথে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন তিনি। জরুরী বার্তা পাঠানো হয়নি বলে পুলিশের কাছ থেকে রেহাই ঠিকই পান রিয়াজুল। ক্ষতি যা হল পুলিশ পাকিস্থান এয়ারলাইন্সকে জানিয়ে দেয় তার রাতে অফিসে ঢোকার কথা। ফলাফল, কর্তৃপক্ষ পরদিন রিয়াজুলের কাছে থাকা অফিসের চাবিটি নিয়ে নেয়।  মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরা রিয়াজুল কিছুই ভেবে পাচ্ছিলেন না। তাহলে কি আর খবর দেয়া যাবেনা! এয়ারলাইন্সের পোলিশ ম্যানেজারের দারস্ত হয়ে রিয়াজুল বললেন, তার অফিসে ট্যালেক্স মেশিনের প্যারালাল একটা লাইন বসাতে চান। নাতসীবাহিনীর হাতে পরিবার হারানো ম্যানেজার রিয়াজুলের আকুতি বুঝতে পেরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সমস্যা হল যিনি কাজটি করতে পারবেন এয়ারলাইন্সের লাইন কমিউনিকেশন ম্যানেজার মি. কয়েন বসেন ব্রাসেলসে। শেষ পর্যন্ত প্যারিসে গিয়ে ইহুদি বংশোদ্ভোত ম্যানেজার কয়েনের সাথে মিলিত হন রিয়াজুল। তাঁকে বলেছিলেন, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় আপনি যদি ত্রিশবছরের তরুণ থাকতেন আর আপনার একটা চেষ্টায় যদি হাজার হাজার ইহুদী প্রাণে বেঁচে যেতো আপনি কি করতেন?  বাংলাদেশে পাকিস্থানীরে ধ্বংশযজ্ঞ সম্পর্কে বোঝাতে সমর্থ হয়েছিলেন রিয়াজুল। কয়েকদিনের মাঝে সম্পর্ণ বেআইনী হলেও নিজের অফিস ডেক্সে একটি প্যারালাল ট্যালেক্সবার্তা রিসিভ করার মেশিন পেয়ে গেলেন। সবার অগোচরে চলতে থাকে রিয়াজুলের গোপন তথ্য পাচার অভিযান।  অফিসে তার চলাফেরায় কঠোর সতর্কতা অবলস্বন করতে হতো।

12336129_10208363557549310_101913654_n[1]
৭১ সালে পি আই এ কর্মস্থলের সামনে সহকর্মীদের সাথে
রিয়াজুল আলম আরও জানান, শশাংক ব্যানার্জি ও বিচারপতি সাঈদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ থাকলেও সবাইকে বুঝতে দিই মনেপ্রাণে পিআইএর চাকুরি করছি আমি। ইচ্চেছ থাকা স্বত্বেও লন্ডনে মিছিল, জনসংযোগে যেতে পারিনা। বিচারপতি সাঈদ চৌধুরীর কড়া বাধা আমি যেনো নিজেকে বুঝতে দিয়ে ক্ষতির কারণ না হই।   রিয়াজুল আলম বললেন, ইউরোপের নানা দেশে থাকা বামপন্থী দীর্ঘদিনের পরিচিত বন্ধুরা আমাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন। তেমনি মার্কিন পিসকোরের এক সদস্যের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল কোপেনহাগে। তাঁর ব্যাক্তিগত কার্ড দিয়েছিলেন। খুঁজে বের করে ফোন দিয়ে দেখি  তিনি কাজ ছেড়ে অবসরে চলে গেছেন অনেকদিন। অনেক চেষ্ঠায় তাঁকে খুঁজে বের করেন রিয়াজুল। ফোনে তাঁকে বলেছিলেন, পাকিস্থানের জন্য আপনার দেশ আমেরিকা ভারতের বিপক্ষে কিন্তু আমরা বাঙালিরা কেন জীবন দেবো। সহযোগিতা চাই। বাহাত্তর ঘন্টা সময় চেয়ে তাঁকে বলেছিলেন, তোমার সাথে কেউ একজন যোগাযোগ করবে।  ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সাথে প্রচন্ড যুদ্ধে জড়িয়েছে পাকিস্থান। পাকিস্থানী বাহিনীর যুদ্ধ রসদে পরিস্কার খবর ভারতীয় মিত্র বাহিনীর হাতে নেই। একদুপুরে তেহরান থেকে অনাকাঙ্খিত অতিগুরুত্বপূর্ণ ট্যালেক্সটি আসে রিয়াজুলের হাতে। পাকিস্থানের অস্ত্রশস্ত্রের ঘাটতি পূরণ করতে আমেরিকার সহায়তায় ইরানের জাহিদান থেকে দুই ডিভিশন সৈন্য বাহিনীর  বিপুল পরিমাণের আধুনিক মারণাস্ত্রে চালান পৌঁছেছে পাকিস্থানের কোয়েটায়। রাত পার হলে করাচি ও মোলতান হয়ে যুদ্ধাঞ্চলে অস্ত্র যাবে রেলপথে। খবরটি শোনার পর আর একটুও দেরি করেননি রিয়াজুল। লেস্টার স্কোয়ারে দাঁড়ানো শশাংক ব্যানার্জি কাছে একটা চিরকুট দিয়েই চলে আসেন। খবর পৌঁছে যায় দিল্লীতে। ভারতীয় বাহিনী দু:সাহসিক বিমান হামলায় কোয়েটা রেল স্টেশনে অপেক্ষারত ৩০টির বেশি মারণাস্ত্রভরা মালগাড়ির বগিগুলো উড়িয়ে দেয়।

বিবিসি ওয়াহ্ব সার্ভিস থেকে সেই খবরটি প্রচারিত হয়। পাকিস্থানী বাহিনী বিপুল পরিমান রসদ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পরে। যুদ্ধ চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।  সেই সময় রিয়াজুল আলমের কাছ খেকে পাওয়া বার্তাটির গুরুত্ব সম্পর্কে শশাংক ব্যানার্জির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,’ দুরন্ত সাহসী ও বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন মানুষ রিয়াজুল। সেই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোপনবার্তাটিই তিনি দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান যদি সেইসব মারণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করার সুযোগ পেত, ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের পরিনতি হত ভয়াবহ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ভাগ্য কি হতো ভাবাও যায়না। লাখো মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন রিয়াজুল আলম, বাংলাদেশের বিজয় নিশ্চিত করেছে তাঁর দেয়া খবরের উপর ভিত্তি করে। কোথায় কখন কতগুলো মারণাশস্ত্র কোন ট্রেন ধরে যাবে সব তথ্যই ছিল তাঁর সেই নোটে। রিয়াজুল আলমের বীরত্বগাঁথার ইতিহাসটির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া জরুরী। স্বাধীনতার স্বাদ আমরা সহজেই পেয়েছি। আর সেখানে বাংলাদেশের যুদ্ধজয়ের বিশেষ নায়ক রিয়াজুল আলম।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিজের অকোতভয় সংযুক্তির বিষয়টি কেন অপ্রকাশিত রাখলেন? বীরত্বের স্বীকৃতি কি দিয়েছে বাংলাদেশ? এমন প্রশ্নে রিয়াজুল আলম বললেন, দেশের স্বাধীনতা চেয়েছিলাম, স্বীকৃতির ধার ধারিনি। সর্বোপরি শশাংক ব্যানার্জি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরাট অংশ জুড়ে তাঁর অবদান। তিনি আমার সম্পর্কে না বললে বিষয়টি অপ্রকাশিতই থেকে যেতো।  বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলি বইটিতে উল্লেখ আছে রিযাজুলের কথা। শশাংক ব্যানার্জির মাধ্যমেই লন্ডনে প্রয়াত ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন তাঁর’ বিজয় দিবসের পর বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ বইটিতে রিয়াজুল আলমের কথা লিখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কারে সম্মানীত করার জন্য সরকারকে বার কয়েক প্রস্তাব করেছেন তিনি। না, বাংলাদেশ সরকার রিয়াজুলের আর খোঁজ করেনি।  রিয়াজুল আলম বললেন, দেশের জন্য জীবন বাজি রাখাটা একজন মানুষ হিসেবে আমি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেই মনে করেছিলাম। স্বীকৃতি পেলাম কি পেলামনা সেটার ধার ধারিনি কোন দিন। স্বাধীনতার চারদশকের উপর হলেও আমরা কাঙ্খিত মুক্তির লক্ষ বাস্তবায়ন করতে পারিনি; তবুও, বুক ভরে বলতে পারি স্বাধীন বাংলাদেশ। বিজয়ের দারপ্রান্তে আসতে আমার নগন্য ভূমিকা ছিল সেটাই অনেক।

আমাদের কথা শেষ হয়। ঘর থেকে বের হওয়ার পথে দেখা হয় একাত্তরে জন্ম নেয়া রিয়াজুল আলমের ছেলে রাজিউল আলমের সাথে। তার কাছে জানতে চাই বাবার যুদ্ধদিনের কথা। রাজিউল বললেন,আমার বাবা দেশের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর সন্তান হিসেবে আমরা খুবই গর্বিত। প্রবাসে থেকেও নিজ দেশের প্রতি আমার বাবার অবদান নতুন প্রজন্মকে উদ্ভুদ্ধ করবে। ইতিহাস বাবাকে ভুলবে কি করে!

Share This Post

Post Comment