লন্ডনে বিজয়ফুল কর্মসূচির বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

bijoy pic-5ব্রিকলেন রিপোর্টঃ  ৩০ নভেম্বর পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনার চত্বরে এ বছরের কর্মসূচি উদ্ধোধন করা হয়। উদ্ধোধনকালে বক্তারা বলেন, বিজয়ফুল কমসূচির মাধ্যমে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ত্যাগের ইতিহাস। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম সহজেই জানতে পারছে বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস।

১৯৭১ সাল। বাংলাদেশ নামক একটি ফুল ফোটানোর জন্য যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিপাগল মানুষ। ২০০৭ সালে সেই ফুলকে বিকশিত করতে লন্ডনে শুরু হয় বিজয়ফুল কর্মসূচি। প্রতি বছরের মত এবারও ৩০ নভেম্বর লন্ডন সময় সন্ধ্যা ছয়টা এক মিনিটে মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ধোধন করলেন  বিজয়ফুল কর্মসূচি ২০১৫। তাঁরা শহীদ মিনারে বিজয়ফুলের একটি রেফ্লিকা অর্পনের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্ধোধন করেন।  বিজয়ফুল বুকে ধানের পরে উপস্থিত সবাই করেন সমবেত জাতীয় সঙ্গীত।

এসময় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন বলেন, দেশ স্বাধীন করার পর বিজয়ফুল কর্মসূচির মত একটি সুযোগ পাওয়ায় আমরা গর্বিত। আমরা এর মাধ্যমে দেশতে তুলে ধরতে পারছি, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা নতুন প্রজন্মেও কাছে তুলে ধরতে পরছি। বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদির বলেন, আমি একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বিজয়ফুল কর্মসূচির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।

শহীদ মিনার চত্বরে প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে সমবেত দেশাত্ববোধে উজ্জিবিত মানুষ, পরে যোগ দেন স্থানীয় মন্টিফিউরি সেন্টারের অনুষ্ঠানে। সেখানে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত শিশু কিশোরদের কর্মশালা, কবিতা পাঠসহ পরিবেশিত হয় মুক্তিযুদ্ধের গান। কবি ইকবাল হোসেন বুলবুলের পরিচালনায় কবিতা আবৃত্তি করেন, নূপুর, স্মৃতি আজাদ, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, নজরুল ইসলাম, সামসুল জাকি স্বপন এবং মুক্তিযুদ্ধেও চিঠি পাঠ করে শুনান আরফুমান চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের গান পরিবেশন করেন, তন্নি, আলাউর রহমান এবং দিলু।   এর আগে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারাও করলেন স্মৃতিচারণ। তারা একাত্তরের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরে সকলকে স্বাধীন বাংলাদেশকে নিরাপদ এবং সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নেয়ার আহবান জানান।  আয়োজকরা বললেন নতুন প্রজন্মের কাছে দেশকে পৌছে দিতে বিজয়ফুল কর্মসূচির বিকল্প নেই।  কর্মসূচির চেয়ার  কবি শামীম আজাদ আরো বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে বিজয়ফুল কর্মসূচি শুরু হয়েছিলো তা বাস্তবায়িত হচ্ছে। পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালীরা নিজের সন্তানদের এই কর্মমসূচির মাধ্যমে দেশকে তুলে ধরছে। কবি মিলটন রহমানের পরিচালনায় দুই পর্বেও অনুষ্ঠানে, আয়োজকরা জানালেন ১ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালীরা পালন করবেন বিজয়ফুল কর্মসূচি।

Share This Post

Post Comment