প্রস্তুত ফাঁসির মঞ্চ, জল্লাদও চূড়ান্ত

imagesব্রিকলেন রিপোর্টঃ স্তুত ফাঁসির মঞ্চ। ধোয়ামোছাও শেষ। মঞ্চের ওপরে টাঙানো হয়েছে শামিয়ানা। জল্লাদও চূড়ান্ত। তারা  দুজন। শাহজাহান ও রাজু।
কারাগারের ভিতরে যেন এক কর্মব্যস্ত অবস্থা। শুধু ভিতরেই নয়, বাইরেও সাঁজসাজ রব। নিরাপত্তার জন্য, পুলিশ, র‍্যাব সবাই প্রস্তত। সংবাদ সংগ্রহে গণমাধ্যম কর্মীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু। সবার মধ্যে এক রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। কখন হবে মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর। এ দিকে বর্তমানে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ কনডেম সেলে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাকা ও মুজাহিদের সঙ্গে তাদের পরিবার দেখাও করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে এ সাক্ষাৎ করেন তারা। বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুজাহিদের ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর। তিনি বলেন, ‘তার বাবা নিজেকে ‘নিরপরাধ’ বলে দাবি করেছেন। আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে প্রাণভিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’ তবে এর আগে সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই কারাগার এলাকা ত্যাগ করেন সাকা চৌধুরী পরিবারের সদস্যরা।
গত বৃহস্পতিবার আপিল খারিজের রায়ের কপি কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছে। রাত পৌনে ৯টায় রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর আইজি প্রিজনের নেতৃত্বে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। পরে সেই রায়ের কপি দুজনকেই পড়ে শোনানো হয়। এ সময় তাদের জিজ্ঞেস করা হয়, তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না? তখন দুজনেই জানান, এ ব্যাপারে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। কারা কর্মকর্তারা আসামিদের জানিয়ে দেন, এখন আর আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। পরে দু’জনেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফের সাক্ষাতের কথা জানান।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতেই দুই কারা চিকিৎসক সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের মেডিকেল চেকআপ করেন। চেকআপে অংশ নেয়া ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের মেডিকেল চেকআপ করেছি। উনারা সুস্থ আছেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বলেন, রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর ফাঁসির মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার রাত দুইটার মধ্যে সেটি শেষ হয়।
সরকারি সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি শনিবার বা এর পর যে কোনো দিন কার্যকর হতে পারে।
রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, প্রাণভিক্ষা ছাড়া মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর আর কোনো কিছুর সুযোগ নেই। এ জন্য আসামিকে নিজ হাতে প্রাণভিক্ষার আবেদনপত্র লিখতে হবে।
এ দিকে ফাঁসির রায় কার্যকরের আগাম সতর্কতা হিসেবে দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাস্তায় টহলে রয়েছেন বিজিবি সদস্যরা। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজধানীসহ সারা দেশে এ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন, সেই রায় অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর এখন শুধু মাত্র সময়ের ব্যাপার।

Share This Post

Post Comment