হরেক রকম চাপাতি আর ধর্মের রাজনীতি

11537479_10153389340958913_3965367742894199809_oড. রুমানা হাশেম: সেদিন বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘন্টায় চল্লিশ মাইল। অফিস ও কাজের জায়গায় যাওয়াই মুশকিল ছিল। ঘরের বাইরে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ বেরোইনি। ওই বাতাস আর বৃষ্টির মাঝেই কেন্সিংটনের মতো জায়গায় রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে ভিজছে কেন এ নারি-পুরুষগুলো? এ কথা ভেবে বিস্ময়ে চোখ বড় হয়েছিল লন্ডনের বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে দিয়ে চলা পথচারিদের। যারা জানতেন না ধর্ম নিরপেক্ষ হিসেবে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিতে ধর্মের নামে ১২ই মে সকালে কি ঘটে গেছে। শুধু প্রবীণ শিক্ষক ও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যাবস্থার উন্নয়নে বিশেষ অবদানকারি এক অধ্যাপকের জন্য কলম ধরতে গিয়ে যে তুখর মেধাবি নাগরিককে বক-ধার্মিক চাপাতিধারকরা দিনের আলোয় কুপিয়ে মারতে পারে, তা শুনেও বিশ্বাস করতে পারেন নি। সেদিন সিলেটের এক শান্তিপ্রিয় সন্তান অনন্ত বিজয় দাশকে বিনা অপরাধে জঙ্গিরা নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার পরও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি ও ধর্ম-নিরপেক্ষ দল হিসেবে দাবিদার আওয়ামিলিগ সরকারের লোকেরা ব্লগ, ফেইসবুক এবং টুইটারে অনন্তের বিরুদ্ধে নগ্ন মন্তব্য করে যাচ্ছিল। এসব শুধু নির্বাক বাঙ্গালীগুলীরাই জানতো। তাই তাদের অনেকেই বিচার চাইতে ছুটে গিয়েছিল বাংলাদেশ দূতাবাসে। আর দেখেছিল দূতাবাস প্রধানের নির্দয় আচরন। চাপাতির রাজনীতি ও মানুষ কোপানোর প্রতিবাদ যার কাছে সময়ের অপচয় মনে হয়েছিল। তিনি প্রতিবাদিদের দিকে এক তাচ্ছিল্যভরা দৃষ্টি দিয়ে দ্রুত উঠে পড়েছিলেন গনমানুষের ট্যাক্সের অর্থে কেনা গাড়িটিতে।
তারপর ছয় মাস পার হয়েছে। আজ বারই অক্টোবর। এখনও বিচার পাওয়া যায়নি কোনো। কিছু এলোমেলো গ্রেপ্তার হয়েছে। এদের একজনকে আবার ছেড়েও দেয়া হয়েছে। অনন্ত হত্যার আগে একইভাবে ওয়াশিকুর রাহমান বাবু এবং অভিজিৎ রায়কে খুন করা হয়েছিল। তাদের খুনিরাও দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনন্তের অপরাধ ছিল যে সে তার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে আওয়ামিলিগের নির্বাচিত এমপির কটু মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছিল।তার শিক্ষক বিএনপিপন্থি হওয়ায় অনেকে সেই শিক্ষকের পক্ষ নেয়াটা অর্থহীন বলেও দাবি করেছে। তাই হয়তো অনন্ত হত্যা নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ইনডিপেনডেন্ট এর খবর বাংলাদেশের পত্রিকার চেয়ে পরিস্কার ছিল। লোমহর্ষক হত্যা হলেও আওয়ামিলিগ সরকারের শাসনামলে এ হত্যার বিচার পাওয়া সম্ভব নয় বলেই মানুষ মেনেছে। কিন্তু এর মাঝে যে আরো এত লোমহর্ষক হত্যাকান্ড ঘটতে পারে তা কারো কল্পনায়ও ছিলনা।
অনন্ত হত্যার দু’মাসের মাথায় ঘটল আরেক দুর্র্ধষ খুন। ব্লগার নিলয় নীলকে নিজ ঘরে আল্লাহর নামে জবাই করে হত্যা করার বিষয়টি নিয়ে জাতি যখন স্তম্ভিত তখন আরো চমক দিতেই যেন তারা লেখক ছাড়িয়ে প্রকাশককে কুপিয়ে মারলো তার নিজের অফিস কক্ষেই। একই শহরে একই সময়ে কুপিয়ে মারার অপচেষ্টা করা হয়েছে আরেক প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল, আরেক লেখক-ব্লগার রনদীপম বসু ও তারেক রহিমকে। আর এ ঘটনার দু’দিন পরেই সেই চাপাতির কোপে আশুলিয়ায় খুন হয়েছেন এক ধর্মপ্রান পুলিশ। সবক’টি খুনকেই দেখানো হয়েছে ইসলাম, আল্লাহ ও ধর্মের দোহাই দিয়ে।
এসব কি বাংলাদেশে নাকি পাকিস্তানে ঘটছে? এমন মন্তব্য করতে শোনা গেছে লন্ডনের লোকজনকে ট্রামে ও ট্রেনে।দেশে কোন সরকার আছে কিনা তা নিয়ে অনেকে টুইটারে প্রশ্ন তুলেছেন। জাগ্রিতি প্রকাশনার প্রকাশক দীপন হত্যার কারন হিসেবে বলা হয়েছে অভিজিৎ রায় এর বই প্রকাশ। আসল কারন কি তা কিন্তু পরিষ্কার নয় । দীপনের পিতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক আবুল কাশেম ফজলুল হক তার ছেলের শিহরন জাগানো হত্যাকান্ডটিকে একটি ‘রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক’ঘটনা বলে দাবী করেছেন । ৩১শে অক্টোবর প্রকাশক, লেখক, কবি ও ব্লগারদের উপর সংগঠিত চাপাতি ও ধর্মীয় আক্রমনে বিশ্বর বহু বাঙ্গালী রাত জেগেছেন। সারারাত প্রায় টুইটারে বিদেশিদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কাটিয়েছেন। ওদিকে ফেসবুকে তো ঝড় চলেছেই।কিন্তু সেই ঝড় থেকে এটাও পরিস্কার ছিল যে বাংলাদেশের বাঙ্গালীরা ইসলাম বিরোধী কিছু মানতে সম্পূর্ণ অপারগ। অনেকেই মাদ্রাসার পক্ষ নিয়েও তর্ক করছিল। আর পত্রিকার অসম্পূর্ণ খবরগুলো মন ভেঙ্গে দেবার জন্য যথেস্ট ছিল। বাংলাদেশের রাজনিতিতে যে চাপাতি এবং ধর্ম ওতপ্রোতভাবে মিশে গেছে তা বুঝতে বেগ পেতে হয়নি।
এই রাজনীতিক পরিবর্তনের কারনেই হয়তো অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও চিন্তক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছেলে হত্যার প্রতিবাদে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছিলেন। যে বিষয়টির প্রতি তিনি সবার দৃষ্টি এনেছিলেন তা হলো যে দেশের সংস্কৃতিই ধর্মীয় রাজনিতিতে বিষাক্ত হয়েছে। যেখানে চাপাতি কলম আর শব্দের চেয়ে বেশি শক্তিশালী সেখানে প্রতিবাদ করে কি লাভ? পুত্র হত্যার বিচার না চাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি চাপাতি আর ধর্মের রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি নীরব এবং শক্তিশালি প্রতিবাদ করেছেন। অভিজিৎ এর হত্যার পর তার বাবা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য অধ্যাপক অজয় রায, নিজের সর্বস্ব দিয়ে প্রতিবাদ ও চেষ্টা করেছেন। বিচারের বানী তাঁর জন্য নীরবেই কেঁদেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে তিনি অসম্মানিত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন। আওয়ামিলিগ সরকারের শাসনামলে এ ধরনের লোমহর্ষক হত্যার বিচার পাওয়া সম্ভব নয়। এটাই অনেকে বলছেন।
যদিও সাতই নভেম্বরে এক ফেইসবুক পোস্টে সজিব ওয়াজেদ দেশের চাঞ্চল্যকর হত্যামামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানাতে গিয়ে মন্তব্য করেছেন,‘আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার শুধুমাত্র সম্প্রতি কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া হত্যাকান্ড ছাড়া ব্লগার, শিশু এবং বিদেশীসহ প্রতিটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেফতার করেছে। যারা বলছিলো সরকার অপরাধীদের ধরছে না এবং কিছুই করছে না তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে এসেছেন’। তবে তার প্রকাশিত সর্বশেষ আপডেট এ বিচার বলে কিছু পাওয়া যায়নি। হত্যাকান্ডের বিচার করা আর এলোমেলো কিছু গ্রেপ্তার দেখানো তো এক কথা নয়। রাষ্ট্রিয় সমাজবিজ্ঞানে সরকারপক্ষ থেকে প্রকাশিত এ ধরনের তালিকাকে নিতান্তই প্রহসনমূলক বলা হয়। রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখা বা সমাজে মানুষের নিরপত্তা বিধানে এসব তালিকা কোন সহায়ক নয়। এখানে বলে রাখা ভাল যে দীপন হত্যাকান্ডটি ঘটেছে অনন্ত হত্যাকান্ডে গ্রেপ্তারকৃত এক আসামি ইলিয়াসকে ছেড়ে দেবার ঠিক তিনদিনের মাথায়। এসব হত্যাকান্ডকে বাংলাদেশের সরকার এবং অনেক সাধারন মানুষ জামাতের কাজ হিসেবে দাবি করেছে। কিন্তু জামাত দেশে এত বিস্তার লাভ করলে কি করে? এ অবস্থা কেন হলো দেশের?
দেশের স্বাধিনতা বিরোধী শক্তি জামাত-ই-ইসলামি বাংলাদেশে অনেক বছর থেকেই ছিল। রগকাটা, চোখ উৎপাটন, এমনকি গলায় বঠি বসাবার চর্চা ওদের শুরু থেকেই ছিল। তবে আজকের মতো দাপটে এরা তা করতে পারেনি কোনদিনো। আমার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির বা ছাত্রি সংস্থার অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছে সাধারন ছাত্র-ছাত্রিরা। এ বিষয়টি সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছিল ১৯৯৯ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে যোন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলনের সময়। জামাত-শিবিরের শেকলে বাধা ছাত্রী সংস্থার মেয়েরা হলের প্রগতিশিল ছাত্রনেত্রি তাসলিমা মিঝিকে হত্যার অপচেষ্টা করলে তা প্রতিহত করতে এগিয়ে এসেছিল হাজার হাজার ছাত্রী। প্রতিবাদে মুখর সাধারণ ছাত্রিরা হল থেকে ছাত্রী সংস্থার মেয়েদের বিতারন ঘটিয়েছিল। রাত একটার সময় হলের মাঠেই শিবিরের চাদার রশিদের সাথে সমস্ত আরবি বই, এমনকি ভুলক্রমে কোরান-শরিফ পুরিয়েছিল মেয়েরা। সে রাতে হলের পনেরশ ছাত্রীর সবাই সহমত হয়েছিল যে ধর্ম নারীর জীবনে শিকল। পরদিন হলে ফিরে হাউস টিউটরদের মুখে প্রতিবাদী মেয়েদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা শুনেছিলাম ঠিকই কিন্তু মেয়েদের প্রতিবাদও চোখগুলোও পরিষ্কার মনে পড়ে। ওটাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শেষ বর্ষ ছিল। সেদিন হলের টিউটরদের রুমে অন্যদের সাথে উপস্থিত ছিলেন ৩১শে অক্টোবর নৃশংসভাবে খুন হওয়া প্রকাশক দীপনের মা, ফরিদা আপা। তিনি ধর্ম নিয়ে কোন শব্দ উচ্চারন করাও অপরাধ মনে করতেন। কিন্তু তিনি এটাও জানতেন যে তার মেয়েরা ধর্মের কারনে খুন হতে জন্মায়নি। তাহলে আজ এসব হচ্ছে কেন? তার একান্ত প্রিয় ছেলেকে কেন ধর্মের কারনে খুন হতে হচ্ছে বাংলাদেশেই?
এর কারনটি সেদিন অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের একমাত্র ছেলে অনন্য আজাদ দিয়েছেন। প্রথমদিকে বাংলাদেশের সুশিল সমাজের মানুষ এবং সরকার কেউই দেশে জঙ্গীবাদের অস্তিত্বকে স্বীকার করেন নি।আজ থেকে প্রায় দু’যুগ আগে যে অধ্যাপক দেখেছিলেন পাক সার জমিনে পরিণত হতে চলেছে তার মাতৃভূমি বাংলাদেশ। যিনি লিখেছিলেন, ‘সব কিছু নস্টদের ঘরে যাবে’। তারপর সেই নস্টরা লেখককেই কুপিয়ে মারলো। তার নির্মম হত্যাকান্ডটি ঘটার সময় আমি জার্মানিতে ছিলাম। শিক্ষকের পরিবার এবং ঢাকার আন্দোলনকারীরা জার্মানি থেকে আমাদের পাঠানো ময়না তদন্তের রিপোর্ট ধরে পূর্ণ তদন্তের দাবী জানিয়েছিলেন। তদকালীন সরকার সে হত্যাকান্ডের তদন্ত রিপোর্ট জাতির কাছে প্রকাশ করেনি। জাতিকে বলা হয়েছিল যে মৃত্যুটি স্বাভাবিক হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঘটেছে। ফলে এখানে তদন্তের কিছু নেই। সে বিষয়টি বেশিরভাগ বুদ্ধিজিবি, সংস্কৃতিমনা শিক্ষাবিদ এবং সুশিল সমাজের প্রতিভূরা বেশ মেনে নিয়েছিলেন। শুধু তরুন প্রজন্ম এবং শিক্ষার্থীরা মেনে নিতে পারেন নি।
তরুন ছাত্র ও শিক্ষকরা সে সময় বিএনপি দলটিকে নাস্তিক শিক্ষকের হত্যার তদন্ত ও বিচার করেনি বলে সমালোচনা করেছে। তারপর বিএনপি সরকারের পতন হয়েছে। ক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি ও ধর্ম-নিরপেক্ষ দল হিসেবে দাবিদার আওয়ামিলিগ। অথচ অধ্যাপকের হত্যাকান্ডের বিচার করাতো দূরে থাক নাস্তিকতা নিয়ে দেশে এখন কথা বলাও অপরাধে পরিণত হয়েছে। জননেত্রি বলে নন্দিত দেশের প্রধানমন্ত্রী জাতিকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে অন্য যা কিছু ঘটে ঘটুক কিন্তু ধর্ম নিয়ে কারো কথা বলা চলবেনা। আজ এক যুগ পরে সেই নাস্তিক অধ্যাপকের বিলক্ষন কথাগুলো মানুষ পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে। দেশ যে নষ্টদের ঘরে আজ চলেই গেল তা নিয়ে কারো সন্দেহ নেই। প্রতি এক মাসে ধর্মের নামে নতুন নতুন নৃশংস সব হত্যাকান্ড ঘটছে। হুমায়ুন আজাদের পুরোপুরি অনুসারী না হয়েও ধারালো চাপাতির বর্বরোচিত আঘাতে, নস্টদের হাতে মর্মান্তিকভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং জীবন দিচ্ছেন মানুষ। শুধু নাস্তিক নয় সাদা মাটা নির্বিবাদী প্রকাশক, সাংবাদিক, পুলিশ, নার্স সবাই।
আজকের লেখায় শুধু জঙ্গিদের চাপাতির আঘাতে খুনগুলো তুলে ধরা হলেও এটা ভাববার অবকাশ নেই যে দেশে ঘটে যাওয়া অন্যসব ভয়ংকর হত্যাকান্ডগুলো কম গুরুত্বপূর্ণ। চাপাতি হাতে ঘুরে বেড়ানো ছাত্রলিগের কর্মীদের বিচরন সবদিকে। দেশের ভেতরে গুম, শিশুহত্যা, বিদেশি হত্যা, ধর্ষণ এবং সড়কপথে দুরঘটনায় ঘটা মৃত্যু সবই রাজনেতিক অস্থিরতা ও রাষ্ট্রের অব্যাবস্থার ফল। তবে ধর্ম-নিরপেক্ষ সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে স্বাধিন হওয়া একটি রাষ্ট্রে ধর্মের নামে যেভাবে প্রগতিশীল লেখক, শিক্ষক ও কবি থেকে ধরে প্রকাশক, নার্স এমনকি নিরাপত্তাকর্মীকেও লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের শিকার হতে হচ্ছে তা মানা অসম্ভব। ইসলাম, আল্লাহ ও নবীর দোহাই দিয়ে মুক্তচিন্তার মানুষদের যেভাবে লিস্ট করে মারা হচ্ছে। তা এ সরকারের আগে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে আমার প্রজন্ম কখনো শোনেনি বা দেখেনি।

লেখক এবং প্রকাশকদেরকে চাপাতির হাতে এভাবে উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে এ সরকার যে রাজনিতির কাছে নিজেদের সমর্পণ করল তা থেকে মুক্তির একটিই পথ। তা হলো নতুন একটি যুদ্ধে নামা। যে যুদ্ধে চাপাতির বিরুদ্ধে তুলে নিতে হবে কলম এবং আর ধর্ম ব্যাবসায়িদের বিরুদ্ধে শব্দ। প্রতিটি নাগরিক যদি কথা বলে উঠে। কলম হাতে পথে নেমে আসে সরকার তাদের নিরাপত্তা দিতে বাধ্য হবে। যে বিষয়টি প্রতিটি শিক্ষিত মানুষ বোঝেন কিন্তু আমাদের সরকার বোঝেন না তা হলো বাংলাদেশের সচেতন নাগরিকদের কলমের মধ্য দিয়েই আসতে পারে দেশকে নষ্টদের হাত থেকে ফিরিয়ে আনার দিক নির্দেশনা। কলমটি মুক্ত হতে দিতে হবে। মনে রাখা উচিত এ সরকারের সমালোচনা করার অর্থ তাদেরকে খাট করা নয়। বরং সরকার ও প্রধানমন্ত্রির কাজের গঠনমূলক সমালোচনা দেশকে নষ্টদের ঘর থেকে ফিরিয়ে আনার কাজেই লাগবে। রাষ্ট্র ও সরকার দুইই বাচতে পারে যদি কলমটি ও কলম ধারীদের বাচতে দেয়া যায়।

Share This Post

Post Comment