এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’: হেলাল হাফিজ

helশেখ মেহেদী হাসান: সমকালীন বাংলা কবিতার এক রাজকুমারের নাম হেলাল হাফিজ। প্রতিবাদ ও প্রেম, দ্রোহ আর বিরহের এই কবি অকল্পনীয় নৈপুণ্য ও মমতায় শব্দের মালা গেঁথে কবিতাপ্রেমী মানুষকে অনির্বচনীয় আমোদ দিয়ে চলেছেন। হেলাল হাফিজ ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। ওই শহরেই কাটে তার শৈশব, কৈশোর ও প্রথম যৌবন। নেত্রকোনায় স্কুল ও কলেজজীবন শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় রচিত কবির ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি তাকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়/এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’- তার এই অমর পঙ্ক্তিযুগল পাণ্ডুলিপি থেকে উঠে আসে মিছিলে, স্লোগানে আর এই ভূখণ্ডের দেয়ালে দেয়ালে। বিস্ময়ের বিষয় হেলালের কবিতা ব্যতীত এখন তরুণ-তরুণীর প্রেমও থেকে যায় অসম্পূর্ণ। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় হেলাল হাফিজের প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সর্বাধিক বিক্রীত এই কাব্যগ্রন্থ হেলালকে এনে দেয় তুঙ্গস্পর্শী কবিখ্যাতি আর ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা। অল্প লিখেও হেলাল হাফিজ গল্প হয়েছেন। নিজের কবিতার মতোই রহস্যাবৃত তার যাপিত জীবন। কবির রচিত মমতা জড়ানো মর্মস্পর্শী পঙ্ক্তিমালা, রূপকথার এই মানুষটিকে সত্যিই আজ এক জীবন্ত কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- শেখ মেহেদী হাসান।

শৈশবে আপনি মাকে হারিয়েছেন। এ বেদনা আপনার কবিতাকে কতটা আপ্লুত করেছে?

আমার জন্ম নেত্রকোনায়। আমার আব্বা খোরশেদ আলী তালুকদার, মা কোকিলা খাতুন। আমার যখন মাত্র তিন বছর বয়স, তখন মা মারা যান। মাতৃহীনতার এই বেদনাই আমাকে কবি করে তুলেছে। তা না হলে আমি হয়তো অন্য কিছু করতাম। খেলোয়াড় হতাম। আমার কৈশোর এবং প্রথম যৌবনে খেলাধুলার প্রতিই ছিল আমার ঝোঁক। ফুটবল, লন টেনিস, টেবিল টেনিস, ভলিবল এসব নিয়েই ছিলাম। স্কুলজীবনে নেত্রকোনার মতো একটা অজপাড়াগাঁয় থেকে আমি লন-টেনিস খেলা শিখেছি। যেহেতু আমার বাবা খুব নামকরা শিক্ষক ছিলেন, সেজন্য সবার কাছে একটু বাড়তি আদর পেতাম। সারা মহকুমায় আব্বা পাগড়িওয়ালা স্যার নামে পরিচিত ছিল। এখনো আমার সবচেয়ে প্রিয় খেলা টেনিস, তারপর ফুটবল। আমার বয়স যখন কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে যেতে লাগল তখনই আমার মাতৃহীনতার বেদনা ভিতরে ভিতরে আমাকে খুব উতালা করেছিল। পরে আব্বা আবার বিয়ে করলেন। আমার সৎমা এলেন। সৎমা যে খারাপ ছিলেন তা নয়। তারপরও আমার মনে হতো আমি কম আদর পাচ্ছি। আসলে তা নয়। এক ধরনের উদ্বাস্তু জীবন আমার শুরু হয় স্কুলজীবন থেকে- একটু এলোমেলো। এ জীবনটা আমাকে খেলাধুলা থেকে মুখ ফিরিয়ে আনে। আমি যখন দশম শ্রেণিতে উঠলাম তখন দেখি আমার ভিতরে যে বেদনা তৈরি হয়েছে এ বেদনা আর প্রশমিত হচ্ছে না। তখন থেকেই আমার কবিতা লেখা শুরু। নেত্রকোনার দত্ত হাইস্কুল থেকে ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাস করে নেত্রকোনা কলেজে ভর্তি হলাম। কলেজে উঠে মনে হলো আমাকে লেখালেখিই করতে হবে। তখন থেকেই আমার ভিতর কবিতা লেখার উন্মাদনা শুরু হয়েছে। ১৯৬৭ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ভর্তি হলাম বাংলা বিভাগে।

আপনি তো বিজ্ঞানের ছাত্র বাংলা বিভাগে ভর্তি হলেন কেন?

আমার ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছা ছিল। তখন ভাবলাম মেডিকেলে এত পড়ালেখার চাপে আমার কবিতা লেখা হবে না, তার চেয়ে ভালো ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হই। তখন তো বাংলা বিভাগে দেশের সেরা শিক্ষকরা অধ্যাপনা করেন- মুহাম্মদ আবদুল হাই, মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, কাজী দীন মহম্মদ, আহমদ শরীফ প্রমুখ। আমাদের সময় ভর্তি পরীক্ষা হতো না। কেবল ভাইভা পরীক্ষা নেওয়া হতো। ভর্তির জন্য ভাইভা দিতে গেলাম। সবাই বসা। মুনীর চৌধুরী স্যার আমাকে বললেন, ‘তুমি আইএসসি পড়ে বাংলা পড়তে আসছ কেন?’ আমি জানতাম মুনীর স্যার নিজেও আইএসসি পাস। পরে তিনি বাংলা এবং ইংরেজি দুটো বিষয়ে পড়েছেন। আমি কোনো ডর-ভয় না করে সবার সামনে বললাম, স্যার আপনিও তো আইএসসি পাস, আপনি বাংলায় পড়লেন কেন? হো হো করে সবাই হেসে দিলেন। এরপর আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হলাম।

আপনি এক বছর বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছিলেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আমি ইকবাল হলের আবাসিক ছাত্র হলাম। ১৯৬৭ সালে ইকবাল হলে ঢুকি আর সেখান থেকে বের হই ১৯৭৫-এ। ভর্তির দুই মাস পরে আব্বার সঙ্গে একটু মনোমালিন্য হলো। এর মধ্যে একদিন কাগজে বিজ্ঞাপন দেখলাম- মুন্সীগঞ্জ হাইস্কুলে একজন স্কাউট জানা আইএসসি পাস শিক্ষক চাই। আমি পরীক্ষা দিলাম। ওরা আমাকে চাকরি দিল। ওখানে এক বছর মাস্টারি করলাম। পরের বছর আবার বাংলা বিভাগে ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হলাম।

আপনার আব্বাও তো লেখালেখি করতেন।

আমার আব্বা খোরশেদ আলী তালুকদারও কবি ছিলেন। উনি নেত্রকোনার একজন খ্যাতিমান শিক্ষকও বটে। খালেকদাদ্ চৌধুরী ‘উত্তর আকাশ’ নামে নেত্রকোনা থেকে একটি পত্রিকা বের করতেন। কবি রফিক আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ ও আমার আব্বা ওই ম্যাগাজিনে লেখালেখি করতেন। কবি নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে আগেই আমার পরিচয় ছিল। আমাদের বাড়ি একই জায়গায়, নেত্রকোনায়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কবি আবুল হাসান, রফিক আজাদ এরকম অনেকের সঙ্গে পরিচয় হলো। রফিক আজাদকে আমি আগে থেকেই চিনতাম। তিনি নেত্রকোনা কলেজে পড়তেন।

আপনার ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি লিখেছিলেন ছাত্রজীবনে। এটি আপনাকে তারকাখ্যাতি এনে দিয়েছিল।

‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ লেখা হয়েছে ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। তখন গণঅভ্যুত্থান একেবারে তুঙ্গে। কবিতাটা লেখার পর কবি হুমায়ুন কবীর ও আহমদ ছফার নেতৃত্বে রাতারাতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে চিকা মারা হয়। প্রথম দুটি লাইন- ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়/এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ যখন স্বাধীন হলো, ১৯৭২ থেকে ধীরে ধীরে এই কবিতা সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। তখন বাম রাজনৈতিক দলগুলো এই কবিতাটিকে তাদের একেবারে সূচনাসংগীতের মতো ‘সূচনা কাব্য’ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। তাদের সব পোস্টারে, লিফলেটে, দেয়ালে দেয়ালে, সব পুস্তিকায় এই কবিতা তারা ব্যবহার করত। তার চেয়েও বড় কথা হলো, এই কবিতা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ সবাই ব্যবহার করে।

সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নিয়েও একসময় সাংবাদিকতা ছেড়ে নিয়মিত জুয়া খেলতেন, কেন?

১৯৭২ সালে আমি সাংবাদিকতা শুরু করি ‘দৈনিক পূর্বদেশ’-এ, সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে। ১৯৭৫ সালে সরকারি আদেশক্রমে চারটা পত্রিকা ছাড়া সব কাগজ বন্ধ হয়ে যায়। পূর্বদেশও তখন বন্ধ হয়ে গেল। সরকার তখন প্রত্যেককে চাকরি দিয়েছিল। আমাকেও দিয়েছিল। কিন্তু আমি সরকারি চাকরি করব না বলে আর কোথাও যোগ দেইনি। তখন বিচিত্র জীবনের মধ্যে ঢুকে গেলাম। আমি তখন বেশ কয়েক বছর জুয়া খেলে জীবিকা নির্বাহ করেছি। আমার জুয়ার ভাগ্য এত ভালো ছিল যে, প্রায় প্রতিদিনই জিততাম। ফলে আমার অর্থের কোনো অভাব হতো না। পত্রিকা অফিসে যে বেতন পেতাম তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল উপার্জন। এভাবে কয়েক বছর বেকার থাকার পর ১৯৭৮ সালে ‘দৈনিক দেশ’ নামে আরেকটা কাগজ বেরোলো। তারা আমাকে ডাকল ওই পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে। সেখানে আমি যোগ দিলাম, কিন্তু তাস খেলা ছাড়তে পারলাম না। একই সঙ্গে চাকরিও করেছি, জুয়াও খেলেছি। সেখানে কাজ করেছি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত। তারপর ‘দৈনিক দেশ’ বন্ধ হয়ে যায়। তখন জীবিকার জন্য সার্বক্ষণিকভাবে জুয়া খেলায় আবার ঝুঁকলাম এবং প্রায় ১০-১২ বছর জুয়াই ছিল আমার চাকরির মতো পেশা। আমেরিকায় ছিলাম পাঁচ মাস। সাংবাদিক এবিএম মূসা আমাকে যুগান্তরে চাকরি দিলেন। সেখানে চার-পাঁচ বছর ছিলাম। এই আমার কর্মজীবন। আমার জীবনে চারটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক নম্বর অঙি্জনে। দুই নম্বর শস্যদানা, তিন নম্বর প্রেম, চার হলো কবিতা। এই চারটা জিনিস ছাড়া আর কোনো কিছুর প্রতি আমার লোভ নেই। আপনার ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি কীভাবে তৈরি হলো? আর কোনো বই বেরোলো না, এর রহস্য কী?

আমি এই বইটির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। সতের বছর লেখালেখির পর ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ বইটি প্রকাশ হয়। বইটি বেরোনোর আগেই আমার জেদ ছিল এবং আকাঙ্ক্ষা ছিল, আমার এই বইটি যেন অন্যান্য কবিতার বইয়ের মতো বেনোজলে ভেসে না যায়। তারপরও আমি অপেক্ষা করেছি, ৮০/৯০টি কবিতা থেকে বাছাই করে কবিতা নিয়েছি। মূল পাণ্ডুলিপি তৈরির জন্য আমার প্রিয় জাতীয় প্রেসক্লাবের লাইব্রেরিতে বসে ছয় মাস ধরে কাটাছেঁড়া করেছি। আজকে একটা লিস্ট করি, আবার রাতে মনে হয়, আহা, ওই কবিতাটি তো বাদ পড়ে গেল! পরের দিন সকাল বেলা এসে আরেকটা লিস্ট করি, ওই কবিতা ঢুকাই আরেকটা কবিতা বাদ দিয়ে। এভাবেই বাছাই করা হয়েছে ‘যে জলে আগুন জ্বলে’র ৫৬টি কবিতা। বইটি প্রকাশ পায় ১৯৮৬ সালে। তারপর বইমেলায় সর্বাধিক বিক্রীত বই শুধু নয়, উপন্যাসের চেয়েও সে বছর বইটি বেশি বিক্রি হয়েছিল। পাঠক মহলে দিনে দিনে বইটির প্রতি আগ্রহ কেবলই বেড়েছে। কিন্তু ক্ষতি হয়েছে আমার। কেন হলো? ক্ষতি হয়েছে এ জন্য, এই তুমুল জনপ্রিয়তা আমার মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি করেছে। আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। এরপরে আমি আর কী লিখব? আমি যে নতুন করে লিখব, আমার লেখা যদি মানুষ পছন্দ না করে! আমার কবিতা যদি ‘যে জলে আগুন জ্বলে’র কবিতার কাছাকাছি না যেতে পারে! আমার কবিতা যদি মানুষ না পড়তে চায়। এই এক অদ্ভুত আতঙ্ক আমার মধ্যে তৈরি হলো এবং দিনে দিনে নিজেকে গুটিয়ে নিলাম। বহু চেষ্টা করেছি এই ভীতি কাটিয়ে ওঠার জন্য। কোনো লেখকেরই সব লেখা সমান হয় না। তা যত বড় লেখকই হউন। কিন্তু এই ভীতি আমার কাটল না।

নতুন বই প্রকাশের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?

আমার সবচেয়ে প্রিয় বিষয় হচ্ছে আলস্য, খুব উপভোগ করি। আমার প্রিয় বিষয় অপচয় আর আত্দপীড়ন। কেন লিখলাম না এত দিন! ওটাও একধরনের আত্দপীড়ন। আত্দহনন করার মতো সাহস হয়নি, কিন্তু এক-দুবার আত্দহননের ইচ্ছাও জেগেছিল মনে। সেখান থেকে বেঁচে গেছি ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ বইয়ের প্রতি পাঠকদের ভালোবাসার জন্য। আমি কিন্তু এরই মধ্যে লেখালেখি শুরু করেছি। আমার পরের বইয়ের নামও মোটামুটি ঠিক করে রেখেছি ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। ওই বইটির পাণ্ডুলিপি তৈরিতে হাত দিয়েছি। আগামী বইমেলার আগেই যাতে পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে পারি, এটাই এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য।

আপনার বান্ধবীভাগ্য ঈর্ষণীয় কিন্তু কোনো নারী আপনার সঙ্গে ঘর বাঁধল না কেন?

ছাত্রজীবনে টাকা-পয়সার অভাব ছিল, বান্ধবীর অভাব ছিল না। কখনো খাওয়ার অভাব হয়নি। আজেবাজে কাজ করারও পয়সার অভাব হয়নি। সবই জুটে গেছে। অন্য অনেকের তুলনায় আমার নারী-ভাগ্য কিন্তু বেশ ভালোই। হেলেন, সবিতা সেনসহ অনেকেই আমাকে ভালোবাসত। সেটা আমার কবিতার কারণেই। অন্য কোনো কারণে নয়। আমার মতো সৌভাগ্যবান কবি এই দেশে খুব কমই আছেন। এত অল্প লিখে এত আদর, ভালোবাসা মানুষের- এটা আমার মনে হয়, এই দেশে তো নয়ই, বিশ্বের যে কোনো সাহিত্যেই বিরল। বাংলা কবিতায় এরকম নজির আর দ্বিতীয়টি আছে বলে খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হবে। কিন্তু এই ভালোবাসাও আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার জীবনে নারীর আধিক্য ছিল বেশি, এ জন্য বাছতে বাছতে সময় চলে গেছে। কবিতাই আমার প্রেমিকা, নিঃসঙ্গতার সতীন, সন্তান।

এই অকৃতদার জীবন আপনার ভালো লাগে?

দুঃখকে উপভোগ করাও একটা জীবন। দুঃখ আছে বলেই জীবন মধুময়। আমার যাপিত জীবন বৈচিত্র্যপূর্ণ। বহু বিত্তশালী নারীদের কবিতা শুনিয়ে আনন্দ দেওয়া বা বন্ধু হিসেবে তাদের সঙ্গ দেওয়া ইত্যাদি আমার জীবনে ঘটেছে। এর বিনিময়ে তারা আমাকে প্রচুর অর্থও দিয়েছেন। মানুষ হয়তো চমকে উঠবে এসব শুনে। কিন্তু যেহেতু আমি কবি, তাই নির্দ্বিধায় এই কথা বললাম। সব ভালোবাসা অথবা বন্ধুত্বের পরিণতি যে শারীরিক কথোপকথনে শেষ হবে এমনটা ঠিক নয়। তারা আমাকে ভালোবেসেই সবকিছু দিয়েছেন। হয়তো ভেবেছেন আমি অর্থকষ্টে আছি, তাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। সেটা করেছেন মূলত আমার কবিতাকে ভালোবেসে। তা না হলে আমার বেঁচে থাকাই কষ্টকর হতো। আসলে মানুষ জমায় টাকা, আমি চাই মানুষ জমাতে।

Share This Post

Post Comment