লন্ডনে বাঙালি পাড়ার ইমিগ্রেশন অ্যাডভাইসের নামে প্রতারণা!

ব্রিকলেন রিপোর্ট: ব্রিটেনের বাঙালি অধ্যুষিত হোয়াইটচ্যাপল এলাকায় ইমিগ্রেশন অ্যাডভাইসের নামে রীতিমত প্রতারণার প্রমাণ পেয়েছে ‘ট্রাস্টিং দ্য ডাইস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। টয়েনবি হলের এক গবেষণা তথ্যে টাওয়ার হ্যামলেটসে ইমিগ্রেশন অ্যাডভাইসের ভয়ানক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তাদের প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার এক তৃতীয়াংশ ইমিগ্রেশন অ্যাডভাইজার ভুল এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে থাকে। এবং শতকরা ১০ ভাগের কোন বৈধ লাইসেন্স নেই। এই অ্যাডভাইজারদের শতকারা ১৪ ভাগ অনৈতিক অ্যাডভাইস দিয়ে থাকেন। অ্যাডভাইজারদের মধ্যে সলিসিটার এবং ওআইএসসি রেজিস্টার্ড অ্যাডভাইজার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
‘ট্রাস্টিং দ্য ডাইস’ শীর্ষক এই রিপোর্টে টাওয়ার হ্যামলেটস বারায় ১২৭জন ইমিগ্রেশন অ্যাডভাইস প্রভাইডার রয়েছে। যারা ফি চার্জ করে এমন ৪৪টি ফার্মে ছদ্মবেশে ভিজিট করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় এক তৃতীংশ অ্যাডভাইজার বিভ্রান্তিকর পরামর্শ দিয়েছেন এবং ক্লায়েন্টদেরকে তাদের মামলা জয় লাভের ব্যাপারে ভাল সম্ভাবনা রয়েছে বলেছেন, যেখানে মামলাটি সেরকম নয়।
এই গবেষণার মধ্যে একজন অ্যাডভাইজার ক্লায়েন্টকে বেআইনি কাজ করার উপদেশও দিয়েছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গবেষণায় বলা হয় কমিউনিটি নেটওয়ার্ক ও বিভিন্ন পেশার ক্লায়েন্টদেরকে সঠিক অ্যাডভাইজার খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।
রেগুলেটরি বডি ও ভলান্টারি সেক্টরের অ্যাডভাইস প্রভাইডারদের মধ্যে সর্বশেষ তথ্যের অভাব রয়েছে। ভলান্টারি সেক্টরের অ্যাডভাইজাররা ক্লায়েন্টদেরকে এমন সব জায়গায় সার্ভিসের জন্য রেফার করেন যে সব সার্ভিসের আদৌ অস্তিত্ব নেই। অথবা তারা কোন ধরনের সাহায্য করতে অক্ষম।
এই রিপোর্ট তৈরি করতে গিয়ে টয়নবি হল ৬৬ জনের ইন্টারভিউ নিয়েছে যারা গত ১২ মাসে ইমিগ্রেশন সার্ভিস নিয়েছে। এই গবেষণা তথ্যে যাদের ইন্টারভিউ নেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হোয়াইট চ্যাপল এলাকার অ্যাডভাইস দাতাদের নিয়ে কমিউনিটিতে নানা রকম কৌতুক প্রচলিত আছে। মূলত আইন ও ইংরেজি ভাষার দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই বাঙালি ছাত্র-ছাত্রী ও অভিবাসীদের কাছ থেকে হাজার হাজার পাউন্ড হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও আছে।

Share This Post

Post Comment