মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অনেক অনেক বছর পর দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আবারো খোলা চিঠি লিখতে বসলাম। আমি বাংলার আঠারো কোটি মানুষের মাঝের সাধারণ একজন। আমি সমগ্র বাংলার মানুষের প্রাণের কথাটা লিখতে বসলাম। আমরা আর পারছি না। আমাদের রক্ষা করুন। আমাদের উদ্ধার করুন। এই মুহূর্তে আল্লাহ’র পরে একমাত্র আপনিই আমাদের এই গজব থেকে উদ্ধার করতে পারেন।

আমি বাংলার ইতিহাসের, পৃথিবীর ইতিহাসের ব্যর্থতম শিক্ষামন্ত্রীর কথা বলছি। জ্বী হ্যাঁ, আপনি তাকে চেনেন, বাংলার প্রতিটি মানুষ ঘৃণাভরে তার নাম দিনে কয়েকবার স্মরণ করে। তার নাম নূরুল ইসলাম নাহিদ। লোকে বলে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা স্মরণকালের সবচেয়ে বড় দূর্যোগের সম্মুখীন। সত্যি বটে, শিক্ষাব্যবস্থায় এত অনাচার এর আগে কখনোই হয়নি। কেউ কেউ বলতে চান এটি বিজ্ঞানের অপব্যবহার, এই আধুনিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এইসব প্রশ্নফাঁসই ভবিতব্য। কথাটা ঠিক নয়। নইলে অন্য সব দেশের শিক্ষাব্যবস্থাও আমাদের মত হতো। কিন্তু তা হয়নি।

শিক্ষায় একজন শিক্ষামন্ত্রীর গুরুত্ব কতটুকু তা দেখিয়ে গিয়েছিলেন এহসানুল হক মিলন। জ্বী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ব্যাপারটা দুঃখজনক শোনালেও আমাকে তার উদাহরণই টানতে হচ্ছে। নকলসহ অন্যান্য অনাচারে যখন পরীক্ষাব্যবস্থা বিপর্যস্ত ছিল তখন তার ঐকান্তিক চেষ্টায়ই জাতি নতুন আশা পেয়েছিল। সেই সোনালী সময় থেকে এক ধাক্কায় যিনি জাতির ভবিষ্যতকে পথে বসিয়েছেন তার নাম নুরূল ইসলাম নাহিদ। এ থেকেই প্রমাণ হয় একজন শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকান্ড কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাকে আমি ননপার্টিজান ইস্যু মনে করি, তাই আক্ষেপের সাথে হলেও আমাকে তার উদাহরণ টানতে হলো, আমি জানি আপনি সেটাকে আপনার সহজাত উদারতার সাথেই গ্রহণ করবেন।

নাহিদ সাহেব একজন ব্যর্থ মন্ত্রী। তার ব্যর্থতা সীমাহীন। এতো ব্যর্থতা নিয়ে কেউ শিক্ষামন্ত্রী থাকতে পারে এমনটা পৃথিবীতে কখনো ঘটেনি। সম্প্রতি দেখা গেছে তার নিকটজনই শিক্ষার সর্বোচ্চ দূর্নীতিতে জড়িত। দূর্নীতির কথা বাদ দিলেও শুধুমাত্র তার ব্যর্থতা ই তার অভিশংসনের জন্য যথেষ্ট। পৃথিবীর উদারতম যুক্তিতেও তিনি মন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারেন না, এটি মন্ত্রীত্ব পদটিরই অপমান। এটি সরকারের অপমান। এটি জাতি হিসেবে আমাদের সকলের অপমান। এর মানে দাঁড়ায় তার চেয়ে যোগ্য কেউ আমাদের মাঝে নেই। তাকে তো অনেক অনেকবার সুযোগ দেয়া হলো। আর কত? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তার ব্যর্থতার কি কোন জবাবদিহিতা থাকবে না? আমরা কি এভাবে প্রশ্নফাঁস হবে সেটাকেই ভবিতব্য ভেবে হাল ছেড়ে একই গতিতে আগাতে থাকবো? যিনি নিজের পিএসের দূর্নীতি সামাল দিতে পারেন না তিনি কিভাবে একটা জাতির শিক্ষাকে নেতৃত্ব দিবেন আমি নিজেকে কোনভাবেই প্রবোধ দিতে পারিনা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি তাকে ফেসবুকে গালি দেই, পঁচাই। আমার মনে অনেক কষ্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি এইসব কোমলমতি বাচ্চাদের এই ভবিষ্যত মেনে নিতে পারিনা। আমার খুবই কষ্ট হয়। আমাদের এই বর্ধিত জনসংখ্যার দেশে শিক্ষার যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আমরা কিভাবে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখবো? শিক্ষা ছাড়া আমাদের এই বর্ধিত জনসংখ্যার দেশে অন্য কোন উপায় আছে সেটা আমি বিশ্বাস করিনা। আমি জানি হয়তো আপনারও বিশ্বাস হয়না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তাকে পঁচাইলে এখন মানুষ প্রশ্ন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি এসব দেখেন না? তিনি কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না নাহিদের বিরুদ্ধে? আপনি দয়া করে বলুন আমি তাদের কি উত্তর দিবো?

ট্রায়াল এন্ড এরর বলে একটা পদ্ধতি আছে। একটা জিনিস চেষ্টা করা হলো ভুল হলে নতুন আরেকটা জিনিস ট্রাই করে দেখা, এভাবে সঠিক জিনিসটা বের করা। নাহিদ সাহেব নয় বছর ধরে ভুল করেই যাচ্ছে, ভুল করেই যাচ্ছে, নতুন কিছু কেন ট্রাই করা হচ্ছেনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটু বলবেন প্লীজ? যদি তাকে পদ দিয়ে সম্মানিত করাটা জরুরী হয়ে থাকে তবে তাকে রাষ্ট্রপতি বানিয়ে দিন আমাদের আপত্তি নাই। কিন্তু দয়া করে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে তাকে সরিয়ে এই পদটিকে কলঙ্কমুক্ত করার আকুল আবেদন জানাই। তার ব্যর্থতার দায় আপনি কেন নিজের ঘাড়ে নিবেন মাননীয়া? আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে জয় লাভ করে সরকার গঠন করুক সেটা আমরা চাই, কিন্তু আবার জয়ী হয়ে নাহিদকেই শিক্ষামন্ত্রী বানাবে এই জিনিসটা চিন্তা করলে তো আমার নিজেরই ঘুম হয়না। কোমলমতি বাচ্চাদের চেহারা চোখের সামনে ভাসে। জাতির অন্ধকার ভবিষ্যৎ চোখের সামনে দেখতে পাই। আওয়ামীলীগ সরকারের যাবতীয় অর্জন ম্লান করে দিতে একজন নুরূল ইসলাম নাহিদ একাই যথেষ্ট! এমনকি তার জামাতাও দোষটা সরকারের ঘাড়েই ফেলে দেয়, বলে সরকারকে নাকি প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে! আপনি কেন এই বোঝা টানবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?

যখন চোখের সামনে একটা ভুল জিনিস হতে দেখি কিন্তু এর কোন প্রতিকার করার উপায় দেখিনা তখন আমার আক্ষেপ হয়। অনেক ক্ষোভে কান্না পায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বাস করুন কয়েক ফোঁটা সত্যিকারের জল চোখে নিয়েই এই চিঠি লিখছি। জাতির ভবিষ্যতের কথা ভাবলে অসহায় লাগে। দেশে থাকা কোমলমতি ভাগ্নে ভাগ্নীর কথা ভাবলে চোখে অন্ধকার দেখি। আপনি বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, ইমরান এইচ সরকারের ভাইব্রাদার বাদে আঠারোটা লোক যদি খুঁজে পান যারা শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নাহিদকে দেখতে চায় তবে তাকে স্বপদে বহাল রাখুন। কিন্তু আঠারো টা লোক পাবেন না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা লোক তাকে ঘৃণা করে। আপনি কি বাংলাদেশের এতোসব মানুষের চাওয়াকে গুরুত্ব দিবেন না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? আমার বিশ্বাস আপনি দিবেন। আমার বিশ্বাস আপনি যদি প্রকৃত ব্যাপারটা জানেন তবে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবেন।

আমি জানি বাস্তব ক্ষেত্রে এই প্রশ্নফাঁসের পরিস্থিতি সামাল দেয়া আসলেই একটু কঠিন, তবে আমার বিশ্বাস কোন তরুণকে এই গুরুদায়িত্ব দিলে তাতে কিছু হলেও ভাল ফল পাওয়া যাবে। যৌবনের এক আলাদা তেজ আছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমাদের হয়তো এই সেক্টরে সোহেল তাজের মত বাঘ দরকার। তিনি একজন প্রমাণিত আপোষহীন দেশপ্রেমিক। দলের জন্যেও তার ত্যাগ সর্বজনবিদিত। এই তেজের কিছু হলেও ফল পাওয়া যাবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। নুরূল ইসলাম নাহিদের কথা তার পিএস ই শুনেনা, বেচারা পারলে সরকারী অন্যান্য কর্মকর্তাদের হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করে ঘুষ যেন কম খায়। তার থেকে আপনি আর কি আশা করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি ছাড়া আমাদের আর কোন পথ খোলা নেই। আমাদের বাঁচান। অতি সত্ত্বর দয়া করে নুরূল ইসলাম নাহিদকে সরিয়ে দিন। নইলে এক নাহিদই সরকারের জন্য ভীষণ কাল হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের বাঁচান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের ভবিষ্যতকে বাঁচান। আমি জানি ওইসব কোমলমতি বাচ্চাদের প্রশ্নপত্র হাতে পরীক্ষার আগে ছুটাছুটি করার কথা শুনলে আপনারও ভীষণ কষ্ট হয়। আজকে একটা ঘটনা শুনে বুকটা একেবারে ভেঙ্গে গেছে। কোথায় যেন দেখলাম অভিভাবকেরা বাচ্চাদের ভুল প্রশ্নপত্র মুখস্থ করিয়ে দিয়েছিলো এটাই পরীক্ষায় আসবে ভেবে। ছাত্রেরা এমনকি প্রশ্নটাও পড়েনি, বাসা থেকে যে উত্তর লিখে দিয়েছে সেটাই খাতায় লিখে দিয়ে এসেছে। এতোই আত্নবিশ্বাস তাদের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্লীজ… আমাদের আঠারো কোটি মানুষের এই অনুভূতিকে দয়া করে অবজ্ঞা করবেন না। এই নুরূল ইসলাম নাহিদের চেহারাটা দেখলেই এখন আমাদের বুকে কষ্ট হয়, আমাদের এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিন… প্লীজ… আমাদের বাঁচান…

_ আঠারো কোটি জনগণের পক্ষে

আমেরিকা থেকে শুভ কামাল।

Share This Post