ইন্টারপুলের ‘নাকের ডগায়’ লন্ডনেই ৭১ এর ঘাতক চৌধুরী মঈনুদ্দিন

চৌধুরী মঈনুদ্দিন, ৭১ সালে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবি হত্যার মূল খলনায়ক।বাংলাদেশের আদালতে মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী।দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যিনি পা18235789-B3B0-4610-9256-BF35421C4DBCলিয়ে লন্ডন চলে এসেছিলেন।

বর্তমানে উত্তর লন্ডনের মিলিয়ন পাউন্ড দামের বাড়িতে বসবাস করেন। ইন্টারপুলের রেড এলার্ট থাকার পড়েও তাকে খুঁজে পায়না পুলিশ । এই নিয়ে আজকেরর সান পত্রিকা প্রকাশ করেছে বিশেষ প্রতিবেদন।
ইন্টারপোলের রেড এলার্ট তালিকায় থেকেও লন্ডনে বিলাসী জীবন যাপন করছেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত চৌধুরী মঈনুদ্দিন।

দ্যা সানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস NHS এর সাবেক পরিচালক চৌধুরী মঈনউদ্দীনকে ১৯৭১ সালের একটি জঘন্য আলবদর বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বাংলাদেশে ২০১৩ সালে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত হন। যিনি বর্তমানে উত্তর লন্ডনের ১ মিলিয়ন পাউন্ড দামের একটি বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

চৌধুরী মঈনুদ্দিন (৬৯) কে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৩ সালে তার অনুপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। যখন পাকিস্তান বিভক্ত হয়েছিলো, তখন NHS এর এই সাবেক পরিচালক, যার নির্দেশ ও নেতৃত্ব একটি ভয়াবহ আলবদর বাহিনী দিয়ে ১৯৭১ সালে ১৮ জন বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করিয়েছিলেন বাংলাদেশে।মঈনুদ্দিনকে রাজধানী ঢাকার একটি যোদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করার রায় দেওয়া হয়।

তবে মঈনুদ্দিন উক্ত রায় কে অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ বলে দাবি করেন। তার আইনজীবীও এটি একটি “শো ট্রায়াল” ব্র্যান্ডিং করে এবং তিনি তাকে সেখানে উপস্থিত করতেও অস্বীকৃতি জানান।

সম্প্রতিকালে ইন্টারপোল ২৫ জন মুসলিম নেতার ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেছে যাদের উপর রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং এদের সবাই পলাতক! কিন্তু দ্য সান সহজেই উত্তর লন্ডনের সাউথ গেইটে তার ১ মিলিয়ন পাউন্ড দামের বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়। সানের সাংবাদিকেরা মঈনুদ্দিনকে ক্যামেরা বন্দি করতেও সক্ষম হোন। একজন প্রতিবেশ জানান, ইন্টারপোলের রেড এলার্ট থাকার পরেও মুঈন উদ্দিন দিব্যি এলাকায় ঘুরে বেড়ান শপিং করেন, মসজিদে যান, মোটামুটি দৈনন্দিন জীবনের সব কাজকর্মই করেন! হয়ত ইন্টারপোল খুব ভালো ভাবে খুঁজছে না তাই তারা পাচ্ছে না!
সম্প্রতিকালে মঈনুদ্দিন তার বাড়িতেই তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিককে দেয়া বক্তব্যে বলেন: “এই সব রাবিশ”।তিনি ইন্টারপোলের রেড নোটিশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ হওয়ার সাথে সাথেই মঈনুদ্দিন বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে পালিয়ে আসেন এবং ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি এবং স্ত্রী ফরিদা (৫৭) চার সন্তানের জনক।

Share This Post