স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরেও বাজার নিয়ন্ত্রনে TCB ব্যার্থ কেন

সুমন দেবনাথ: ট্রেড কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ (TCB) নামক একটি বাজার নিয়ন্ত্রনকারী সরকারী সংস্থা আছে, যা প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৭২ সালে। TCB’s main functions are:
১) To import commodities according to the requirements of the government;
২) To distribute the imported commodities at fair prices to keep the market stable;
৩) To create overseas markets for traditional and non-traditional products of Bangladesh and export those products;
৪) To keep a watch on the supply and price situation of the essential goods;
৫) and to engage in trading and related activities as directed by the government.(সোর্স: বাংলাপিডিয়া) এই ছিলো TCB গঠনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

এখন এই TCB কেই ব্যাবসায়িক নেতারাই পলিটিক্যাল নেতাদের প্রভাবিত করে টিসিবিকে অকার্যকর করে রাখেন। যার পিছনে কলকাঠি নাড়ছেন আমাদের ব্যাবসায়িকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন FBCCI! TCB অকার্যকর করে রাখেন যাতে করে উনারা নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিস আমদানি করে বেশী দামে বিক্রি করতে পারেন। তাছাড়া ট্রেডিং পাওয়ার ইনাদের কাছে থাকাতে সরকারকে ভালোই কব্জা করে রাখতে পারেন! টিসিবি এর কার্যক্রম শুধু রমজান মাসেই সীমিত পরিসরে; নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য রাস্তায় খোলা ট্রাকে করে জিনিসপত্র বিক্রি করতে দেখা যায় এবং এটা করেই উনারা উনাদের দায়িত্ব শেষ করেন! কি হতো যদি নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্য সরকারী ভাবে আমদানী করে দেশের থানা পর্যায়ে এজেন্ট নিয়োগ করে সীমিত পরিমান লাভ ধার্য করে একটা নির্দিষ্ট দামে সকল জিনিস বিক্রি করতে ব্যাবসায়িদেরকে বাধ্য করা হতো। তাহলে ব্যাবসায়িক নেতারা সরকারের কব্জায় থাকতো আর সিন্ডিকেট করারও সাহস পেতো না! বাজারও স্থিতিশীল থাকতো। আজকে আমরা প্রায়ই দেখতে পাই অমুক সিন্ডিকেট তমুক সিন্ডিকেটের জ্বালায় সরকার সহ দেশের সামগ্রিক জনগনের জীবনযাত্রা নাভিশ্বাস হয়ে উঠছে। সর্বশেষ উদাহরণ সম্রাট শাহজানের পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘট! যা থেকে আমরা সহজেই দেখেছি কিভাবে একটা দেশকে অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন উনারা!

দেশে সিন্ডিকেটের অবস্থা এমন হয়েছে যে একটা সেলুনের দোকানের মালিক পর্যন্ত সিন্ডিকেটের আওতায়! এই সব সিন্ডিকেটের কারণেই গড়ে উঠে বাজারে মধ্যসত্ত্বভূগি , ফলে কৃষক বা উৎপাদনকারী পায়না তাদের ন্যায্যমূল্য! আবার এই সব সিন্ডিকেট যদি চায় যে কোন মূহুর্তে তারা বাজার অস্থিতিশীল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। বাজার অস্থিতিশীল করতে পারা মানেই জনগনকে সহজেই সরকার বিমুখ করা। যার ফলাফল কি তা আমরা সহজেই অনুমেয় করতে পারি!

আজ স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও আমরা একটা নিরাপদ বাজার ব্যাবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি! যাতে করে জনগনের স্বার্থ সংরক্ষন করা যায়। নিরাপদ বাজার ব্যাবস্থা করতে না পারার প্রথম প্রতিবন্ধকতাই হলো রাজনীতিতে ব্যাবসায়িক নেতাদের আগমন! তাই তারা এমন কোন আইন কানুন করেন না যাতে তাদের নূন্যতম ব্যাবসায়িক স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়! একমাত্র যদি TCB কে শক্তিশালী করা যায় তাহলেই সম্ভব বাজার ব্যাবস্থাকে সরকারী ভাবে নিয়ন্ত্রন করা।
আজ TCB যদি কার্যকর থাকতো তাইলে সিন্ডিকেটের নেতারা চাল নিয়ে এমন চালবাজি করতে পারতেন না! তাই আমরা সাধারন জনগন চাই TCB কে শক্তিশালী করে জনগনকে ব্যাবসায়িক নেতাদের হাত থেকে মুক্তি দেওয়া হোক। বর্তমানে কাগজকলমের TCB চাই না, চাই সত্যিকারের শক্তিশালী TCB যারা কাজ করবে জনগনের স্বার্থরক্ষায় এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক: অনলাইন এক্টিভিষ্ট ও সাংবাদিক, ব্রিকলেন, লন্ডন।
মতামত পাঠান: Sumon_lus@yahoo.com

Share This Post