বিশ্বে যেভাবে শরনার্থী গ্রহন করা হয়, আর আমরা যেভাবে করি!

IMG_5828এবার আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে আগুনেই ঝাঁপ দিলাম আমরা!

মানবতার দোহাই দিয়ে যেভাবে গনহারে রোহিঙ্গাদের দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে তা বিশ্বে নজিরবিহীন! বিশ্বে নজিরবিহীন কেন? এবার আসুন দেখি, বিশ্বের অন্যান্য দেশে কিভাবে শরনার্থী গ্রহন করা হয়?

১) প্রথমেই মানবিক সংকট সৃষ্টি হওয়া দেশ থেকে জীবন নিয়ে পালিয়ে আসা জনস্রোত সামাল দিতে জাতিসংঘের তত্বাবধানে একটি ক্যাম্প বা শরনার্থী শিবির থাকে এবং এই ক্যাম্পে সবাইকে নিয়ে এসে জড়ো করানো হয়। এখানে অবস্থান করা সবার বেসিক রাইট (অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা) নিশ্চিত করা হয়।

২) ক্যাম্পে আগত সবার একটা ডাটাবেস তৈরী করা হয় With all possible identity details. যাতে করে ভূয়া কেউ কুনাক্ষরেও এই শরনার্থী সুবিধা নিতে না পারে। এই তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এখানেই মোটামুটি ভালো লেভেলের একটা ফিল্টারিং হয়ে যায়! তারপরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বায়োমেট্রিক আইডি কার্ড করে দেওয়া হয় যাতে তাদের চলাফেরায় কোন অসুবিধা না হয় (একটা নির্দিষ্ট এলাকার ভিতরেই থাকতে হয়) এবং এখান থেকে কেউ পালিয়ে গেলে সহজেই তাদের ট্রেস করতে পারে। যেমন ইউরোপের ভিতরে যে কোন দেশে একবার ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে দিলে, তা আপনি ২৭টা দেশের ভিতরে যেখানেই থাকেন না কেন আপনাকে বাহির করা তাদের সময়ের ব্যাপার মাত্র!

৩) উপরোক্ত ধাপ দু’টো সম্পূর্ন হওয়ার পরে জাতিসংঘ এবার বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ বা দেনদরবার করে তখন বিভিন্ন দেশের সরকার মানবিকতার ডাকে সাড়া দিয়ে তারা তাদের সামর্থ অনুযায়ী জাতিসংঘের ক্যাম্পে অবস্থানরত মানুষদের বিভিন্ন দেশে প্রেরন করা হয়। তারপর উক্ত দেশে যাওয়ার পরে এইসব মানুষ সঠিক ইমিগ্রেশন প্রসেস ফলো করে তবেই কেবল মেইন স্রোতের সাথে মিশে গিয়ে জীবনের নতুন চ্যাপ্টার ওপেন করেন।

এই হলো বিশ্বের যেকোন দেশে শরনার্থী গ্রহন করার নিয়ম। এবং মানবিকতা যতই বর্বর কিংবা সংকটপূর্ন হোক না কেন এই নিয়ম পাশ কাটিয়ে কোন দেশ শরনার্থী গ্রহন করে না! নিকটবর্তি সময়ে যেমনটা দেখেছি সিরিয়া সংকটে! হাজার হাজার মানুষের ঢল যখন ইউরোপের দিকে আঁচড়ে পরছিলো তখন কিন্ত কোন দেশ এমনিতেই সীমান্ত খুলে দিয়ে বলেনি, ‘বাপুরা যাত্রা পথে তোমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে, এবার এখানে আসো খাও দাও ঘুমাও বিন্দাস জীবন উপভোগ করো!’ যারাই শরনার্থী হয়েছে তারা উপরোক্ত প্রসেস ফলো করেই হয়েছে। এই নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই!

এবার প্রশ্ন করতে পারেন, যদি জাতিসংঘ উদ্দ্যোগ না নেয় তবে ঐ দেশের করনীয় কি? উত্তর সহজ! যারা মানবিক সংকটের শিকার হয়ে নিজ দেশ ছেড়ে চলে আসছে তাদের কে তো আপনি সীমান্তে গুলি করে হত্যা করতে পারবেন না! সুতরাং আপনার নিজের নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে তাদের কে নিরাপদ আশ্রয়ে এনে বেসিক রাইট নিশ্চিত করে তাদেরকে একটা সিস্টেম্যাটিক উপায়ে উপরের ধাপগুলো (১,২,৩) ফলো করলেই হয়! তখন আমরা আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবো।

কিন্তু রোহিঙ্গা সংকটে আমরা কি দেখলাম? যখনই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দিলেন, “রোহিঙ্গাদের সাথে মানবিক আচরন করতে”! এমনি করে আমাদের একদল নিজেরাই নৌকা নিয়ে চলে গেলাম টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা আনতে! তারা এলো, আবার আমাদের আরেক দল টাকার বিনিময়ে পাহাড় কেটে সমতল করে তাদের বসতবাড়ি তৈরী করার সুযোগ করে দিলাম। বাহ্! কি সুন্দর নিয়ম! নিজ দেশ ছেড়ে আসার দুই দিনের ভিতরেই নতুন জীবন স্যাটেল্ড ডাউন! মিশে গেলো এরা মেইন স্রোতে! ছড়িয়ে পড়লো বাংলার গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্তে! সুযোগ বুঝে টাকা দিয়ে আমাদের অসৎ রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে প্রথমে ভোটার আইডি কার্ড পরে পাসপোর্ট। এই তো পেয়ে গেলো বাংলাদেশী সিটিজেনশিপ! আর কি চাই? এবার এই দেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গিয়ে জঙ্গিপনা কিংবা বিভিন্ন অপকর্ম করে ধৃত হলে কাদের কপালে বদনাম ঝুটবে বলেন দেখি?

এভাবে ঢলের সাথে আসা রোহিঙ্গা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীও জানে না ঠিক কত জন রোহিঙ্গা আসলো! সে কারনেই দেখা যায় রোহিঙ্গা বিষয়ে তাদের সংখ্যা বলার আগে “প্রায়” শব্দটা ব্যাবহার করতে হয়! তাইতো সরকারী ও বেসরকারী হিসাবে তথ্যের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক পাওয়া যায়! গত ক’দিনে কোথাও দেখেছি ১ লক্ষ ৩২ হাজার আবার কোথাও দেখেছি ১.৫ লক্ষ রোহিঙ্গা এসেছে! সুতরাং আমি কোন সংখ্যাটি সঠিক বলে ধরে নিবো? ঠিক তেমনই শুরু থেকে এ পর্যন্ত কতজন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আছেন তার সঠিক হিসাব কোথাও নাই (গুগুলও বলতে পারেনি)! কোথাও পেয়েছি ৫/৬ লাখ আবার কোথাও পেয়েছি ৭/৮ লাখ! আমি চ্যালেন্জ দিয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশ সরকারসহ তামাম দুনিয়ার কেউই ‘দেশে সর্বমোট কতজন রোহিঙ্গা আছেন’ তার সঠিক হিসাব কেউ দিতে পারবে না! অন্য দিকে উন্নত বিশ্বের যে কোন দেশকে জিজ্ঞাস করুন আপনাদের দেশে শরনার্থী কতজন আছেন? দেখবেন কম্পিউটারের এক টিপেই বলে দিবে কতজন আছেন! তাহলে আমরা কেন পারছি না? রোহিঙ্গা প্রবেশের সাথে সাথে ডিজিটাল ফরমেটে একটা ডাটাবেস করে নিতে কি আমাদের খুব বেশী কষ্ট হয়ে যেতো?

যেহেতু রোহিঙ্গাদের চরিত্র নিয়ে প্রচুর অভিযোগ আছে সেহেতু সন্ত্রাসপ্রবন এই পৃথিবীতে এভাবে ঢালাও ভাবে অনুপ্রবেশ সুযোগ করে দেওয়া ঠিক কতটুকু যুক্তিযুক্ত নীতি নির্ধারক মহলের কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম। মিয়ানমার সরকার সংকট সৃষ্টি করে এদিকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশ করে তারা যাতে আর সেখানে ফেরত যেতে না পারে তার প্রস্তুতি হিসাবে তাদের (সীমান্তে আন্তর্জাতিক ভাবে নিষিদ্ধ ‘স্থল মাইন’) বসাচ্ছে। যেহেতু রোহিঙ্গা একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা তাই আশা করবো অতিশিগ্রই জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে এই সমস্যার সর্বজনবিধিত গ্রহনযোগ্য সমাধান করে তারা তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে এবং জনসংখ্যার ভারে নুয়ে যাওয়া বাংলাদেশ অচিরেই বোঝা মুক্ত হবে।

Share This Post