লন্ডনে খ্রিষ্টান শিশুকে মুসলিম পরিবারে লালন পালন বিতর্কিত মামলার রায়

স্বপ্নারা খাতুন
স্বপ্নারা খাতুন
জুয়েল রাজঃ :  পাঁচ বছর বয়সী এক খ্রিষ্টান শিশুকে মুসলিম পরিবারে লালন পালন কালীন সময়ে ধর্মান্তরিত করণ চেষ্টা মামলায়, শিশুটিকে পরিবারে ফিরিয়ে দেয়ার পক্ষে রায় দিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিচারক স্বপ্নারা খাতুন। বিতর্কিত এই মামলায় রায় নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছেন ব্রিটেনের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই  বিচারক। ২৯ আগস্ট শিশুটিকে তার দাদীর কাছে ফিরিয়ে দেয়ার  নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, খ্রিষ্টান শিশুকে জোর করে একটি মুসলিম পরিবারে ভরণ পোষণের  আওতায় রাখা হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, বাঙালি  অধ্যুষিত  পূর্ব লন্ডনে এক ইংরেজী ভাষাভাষী শিশুকে আরবি ভাষাভাষি  পরিবারের সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। ক্রুশ সম্বলিত  নেকলেস তার গলা থেকে খুলে ফেলা হয়েছে।

 ওই শিশুটিকে মুসলিম পরিবারের হেফাজতে দিয়েছিল স্থানীয় কর্তৃপক্ষ টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। এদিকে, হ্যামলেটস কাউন্সিল দাবি করেছে, মামলাটিকে মিডিয়ায় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের দাবি, কোনও শিশুকে কারও লালন-পালনের আওতায় দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই শিশুর আগ্রহকে বিবেচনা করা হয়।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এক মুখপাত্র বলেন: ‘যখন আমরা কোনও মামলার এমন কোনও বিস্তারিত জানতে পারি না, যা শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করতে পারে তখন তা নিয়ে রিপোর্ট করলে সেখানে অসম্পূর্ণ তথ্য থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সত্যিকার অর্থে এ শিশুটিকে যারা লালন পালন করছিল তারা ইংরেজি ভাষাভাষি পরিবার এবং তাদের মিশ্র জাতিতাত্ত্বিক পরিচয় রয়েছে। আমরা আরও বিস্তারিত দিতে পারতাম কিন্তু আইনগতভাবে এমনটা করার সুযোগ আমাদের নেই। শিশুটিকে যেন পরিবারের কোনও সদস্য দেখাশোনা করে সেটাই আমরা সবসময় করতে চেয়েছি এবং সে চেষ্টা চালিয়ে যাব।’
অবশ্য, বিচারপতি স্বপ্নারা খাতুন জানিয়েছেন, খ্রিস্টান পরিবারের লালন পালনের আওতা থেকে ওই মুসলিম শিশুকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের সংশ্লিষ্টতা নেই। দাদি যথাযথভাবে ওই শিশুকে লালন-পালন করতে পারবেন বলে আদালতে প্রমাণ হাজির করার সাপেক্ষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ওই শিশুকে কী কারণে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল তা জানা যায়নি। তবে তার ভরণপোষণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়েছিল।
শিশুটির জাতিগত পরিচয়, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রাখতে তাকে তার দাদির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত বলে রায় দিয়েছেন।
এর আগে ২০০৭ সালের জোরপূর্বক বিয়ে সংক্রান্ত আইনের খসড়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। এ আইনের আওতায় জোরপূর্বক বিয়ে ঠেকিয়ে প্রটেকশন অর্ডার জারি করতে পারে আদালত।
উল্লেখ্য যুক্তরাজ্যের শিশু আইন ১৯৮৯ তে বলা আছে, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক কোনও শিশুকে ফস্টার কেয়ার বা ভরণপোষণের আওতায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ওই শিশুর ধর্মীয় বিশ্বাস, জাতিতাত্ত্বিক উৎস এবং সাংস্কৃতিক ও ভাষা সংক্রান্ত পূর্ব ইতিহাস পরীক্ষা করে নিতে হয়। 
 
আদালতের রায়ে স্বপ্নারা বলেন, মেয়েটির সর্বোচ্চ আগ্রহের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেয়েটি চেয়েছে পরিবারের এমন কোনও সদস্যের সঙ্গে থাকতে যে তাকে তার জাতিতাত্ত্বিক পরিচয়, সংস্কৃতি ও ধর্মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরাপদ রাখতে পারবে, তার মঙ্গলের কথা ভাববে এবং তার চাহিদা পূরণ করবে।
 
 
অন্যদিকে সংবাদপত্রে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মুসলিম সংগঠনগুলোও। তাদের অভিযোগ, মুসলিম সম্প্রদায়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

Share This Post