যে অনলাইন গেইম খেলে আত্মহত্যা করে তরুণ তরুণীরা !

গেইমসুমন দেব নাথঃ ভাবতে পারেন “আত্মহত্যা” করাটাও একটা খেলা হতে পারে? হ্যাঁ, এমন একটা খেলা চলছে অনলাইন জুড়ে! এই খেলা এতোটাই দ্রুত ছড়িয়ে পরছে অনলাইনে যে, এই অনলাইন গেইমের কারনে রাশিয়ায় ১৩০ জন টিনেজার,ভারতে তিন জন সহ আরো অনেক দেশেই অনেক টিনেজরা আত্মহত্যা করছে ঐ অনলাইন গেইমের পার্ট হিসাবে! আপনি যদি অভিভাবক হয়ে থাকেন তাহলে আপনার টিনেজ ছেলে-মেয়েটি অনলাইনে কি করছে এবিষয়ে তীক্ষ্ণ সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। না হলে এই অনলাইন গেইমের প্রভাবে হারাতে হতে পারে আপনার বুকের মানিক কে!

যদি কোনও কিশোর (১১ থেকে ১৯ বছর বয়সী) আপনার পরিবারের কোনও ইন্টারনেট বা তার আশেপাশে কোনও ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে, তাহলে (“Blue W***) নামে একটি গেমে ফেসবুক অথবা Whatsapp এ তাদের সতর্ক করুন, এটি খেলার জন্য কোন লিংক গ্রহণ করবেন না এবং লিঙ্কটি খুলবেন না। Blue W*** আত্মহত্যা খেলাটি একটি সামাজিক মিডিয়া গ্রুপ  বলে মনে করা হয় যা মানুষকে নিজেরাই হত্যা করার জন্য উত্সাহিত করছে। Instagram এ অসুস্থ প্রবণতা সম্পর্কিত হাজার হাজার পোস্ট আছে।

কি খেলা এটি: এটি মনে করা হয় যে, একটি খেলার গ্রুপ সদস্যদের দৈনন্দিন কাজগুলি প্রদান করে, যা তাদের ৫০ দিনের বেশি সম্পন্ন করতে হয়। ভয়ানক কাজগুলি আত্ম-ক্ষতির মধ্যে রয়েছে, ভয়াবহ হরর মুভি দেখা,  এবং অস্বাভাবিক সময়ে ঘুম থেকে উঠে কোন কাজ করা এবং এইগুলি ধীরে ধীরে আরো চরম হয়ে উঠা। মোটকথা হচ্ছে, তাদের কে এমন সব কাজে নিয়মিত করা হয় যা তাদের প্রভাবিত করে আত্মহত্যার দিকে! ৫০ তম দিনে খেলাটির নিয়ন্ত্রণকারী ব্রেইনওয়াসড তরুণদেরকে আত্মহত্যার নির্দেশ দিয়ে থাকে! যেহেতু খেলোয়াড়রা তাদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর এবং ইমেল ঠিকানাগুলি ভাগ করে নেয়, তখন ডেভেলপাররা বিভিন্ন ধরণের মানসিক কৌশলগুলি ব্যবহার করে তাদের মেইল এবং বার্তাগুলি পাঠিয়ে তাদের আবার খেলায় অংশগ্রহন করতে বাধ্য করায়! আপনি যদি খেলার মাঝখানে খেলা ছেড়ে দেন ঐ হ্যাকার আপনি এবং আপনার পরিবার হত্যা করার হুমকি দিবে। একবার খেলা শুরু করলে নির্দিষ্ট সময়ের বিরতি ছাড়া  আপনি থামাতে পারবেন না এবং ৫০টি কাজ সম্পন্ন করতে হবে। একবার আপনি এই খেলাটি শুরু করলে হ্যাকার আপনার মোবাইল হ্যাক করে যেহেতু আপনার ব্যাক্তিগত সকল তথ্যই তাদের দিয়ে ফেলেছেন!

 

কি সেই ৫০টি কাজ:

১) আপনার হাতে একটি F57 রেজার সঙ্গে গাঁজা, কিউরেটর কে একটি ফটো পাঠান।

২) ভোর ৪.২০ এ জেগে জেগে উঠে ভীতিকর ভিডিওগুলি দেখুন যা কিউরেটর আপনাকে পাঠিয়েছে।

৩) আপনার হাতের শিরা বরাবর একটি রেজার সঙ্গে আপনার হাত কাটা, কিন্তু খুব গভীর না, শুধুমাত্র ৩ কাটা, কিউরেটর কে একটি ফটো পাঠান।

৪) সাদা কাগজের একটি শীটে একটি Blue W*** এর ছবি আঁকুন এবং কিউরেটর কে সেই ছবি পাঠান।

৫) আপনি “Blue W*** হয়ে” প্রস্তুত হলে, আপনার পায়ে “হ্যাঁ” আঁকুন সেই রেজার দিয়ে। যদি প্রস্থুত না হয় থাকেন, নিজের শরীর কেটে নিজেকে শাস্তি দিন!

৬) সাইফার সঙ্গে একটি কাজ!

৭) আপনার হাতে রেজার দিয়ে কেটে “f40” লিখে কিউরেটরকে একটি ছবি পাঠান।

৮) আপনার গেইম স্ক্রিনে টাইপ করুন “#আমি Blue W***”!

৯) আপনি আপনার ভয় অতিক্রম করতে হবে। কোন কিছুতে ভয় থাকতে পারবে না।

১০) ভোর ৪.২০ ঘুম থেকে উঠে এবং ছাদের সর্বোচ্চ জায়গান যান।

১১) একটি রেজার দিয়ে আপনার হাতে একটি Blue W*** এর ছবি এঁকে কিউরেটরকে একটি ছবি পাঠান।

১২) সারা দিন psychedelic এবং ভয়াবহ ভিডিও দেখুন যা কিউরেটর পাঠাবে।

১৩) সঙ্গীতগুলি শুনুন যে “তারা” (কিউরেটর) আপনাকে পাঠাচ্ছে।

১৪)  আপনার ঠোঁট কাটা ছবি পাঠান কিউরেটরকে।

১৫) আপনার হাতে একটি সুই দিয়ে অনেকগুলো ফুটা করা ছবি পাঠান।

১৬) নিজের জন্য বেদনাদায়ক কিছু করুন, নিজেকে অসুস্থ করুন।

১৭) আপনি আপনার জানা সর্বোচ্চ উঁচু একটি ছাদ যান এবং কিছু সময়ের জন্য প্রান্তের উপর দাঁড়ানো ছবি পাঠান।

১৮) একটি সেতু যান এবং সেতুর প্রান্তের উপর দাঁড়ানো ছবি পাঠান।

১৯) একটি ক্রেনের উপর আরোহণ এটি করতে চেষ্টা করুন ও ছবি পাঠান।

২০) এবার কিউরেটর আপনার বিশ্বস্ততা চেক করবে।

২১) এবার স্কাইপে আপনার আপনার মত বা অন্য একজন খেলোয়াড়ের সাথে একটি আলাপচারিতা করাবে।

২২) একটি ছাদে যান এবং আপনার ছাদের উপরের প্রান্তে পা ঝুলিয়ে বসে আছেন এমন ছবি পাঠান।

২৩) সাইফার সঙ্গে আরেকটি কাজ করতে বলা হবে।

২৪) গোপন কাজ (যে কোন কিছু হতে পারে)

২৫) আপনার মত আরেকজনের” সঙ্গে একটি অনলাইন বৈঠক করতে হবে।

২৬) এ পর্যায়ে কিউরেটর আপনাকে আপনার মৃত্যুর তারিখ বলে এবং আপনাকে সেটি গ্রহণ করতে হবে।

২৭) ভোর ৪.২০ এ যে কোনও রেলপথ দেখুন যা আপনি পাবেন আপনার এলাকায়।

২৮) সারাদিন কারো সাথে কথা বলা যাবে না।

২৯) একটি প্রতিজ্ঞা করুন যে “আপনি একটি Blue W***।

৩০-৪৯) প্রতিদিন আপনি ভোর ৪.২০ এ জেগে উঠে ভয়ংকর ভিডিও দেখুন, গান শুনোন যা “তারা” আপনাকে পাঠাচ্ছে, প্রতিদিন আপনার শরীরের ১টি করে কাটা কাটতে থাকুন, এবং “একটি Blue W*** এর সঙ্গে কথা বলুন।

৫০. আগে কিউরেটররে দেওয়া আপনার মৃত্যু তারিখ অনুযায়ী একটি উচ্চ বিল্ডিং থেকে ঝাঁপ দাও।

আপনার জীবন নিন! এবং এভাবেই আপনার আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে খেলাটি শেষ হবে।

আমাদের কি করনীয়ঃ

বাবা,মায়েরা তাদের সন্তানদের সাথে কথা বলবে এবং জোর দিয়ে বলবে যে তারা তাদের নিজস্ব পছন্দগুলি তৈরি করতে পারে এবং কিভাবে কোন কথা বলতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করতে পারে। টিনেজ ছেলে-মেয়ের সারাদিনের ইন্টারনেট একটিভিটির উপর সতর্ক নজর রাখা। উপরোক্ত ৫০টি কার্যক্রমের যে কোন একটি চোখে পড়লেই নিজে সতর্ক হয়ে তাদের সাথে প্রচুর সময় কাটান প্রয়োজনে ভালো কোন মানসিক ডাক্তার দেখান। ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এই ওয়েব সাইটের একসেস বন্ধ করে দিচ্ছে। ভারতীয় সরকার ফেইসবুক, গুগুল সহ বিভিন্ন সোশাল মিডিয়াকে নির্দেশনা দিয়েছে যাতে তাদের প্লাটফর্ম থেকে কেউ এধরনের লিংক খুলতে না পারে! লন্ডনের স্কুল কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে তাদের অভিভাবকদের সতর্ক করছে।

এদিকে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যেহেতু হ্যাকাররা এই Blue W** সুইসাইড চ্যালেঞ্জ পরিচালনা করে তাই এটা ট্র্যাক এবং হান্টিং করা খুব কঠিন কাজ । এই সুইসাইড চ্যালেঞ্জ ছড়িয়ে পড়ার জন্য সরকার বা পুলিশ কিছুই করতে পারে না তাই আমাদের উচিত নিজে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা টিনেজ ছেলে মেয়েদের প্রতি এবং এই ওয়েবসাইট যাতে কেউ ব্যবহার করতে না পারে তার একসেস দেশে সরকারী ভাবে বন্ধ করে দেওয়া।

যদি কোনও ব্যক্তির উপরে উল্লিখিত লক্ষণগুলির কোনটি দেখতে পাওয়া যায় তবে তার অর্থ হচ্ছে বিপদ। দয়া করে অন্যদের নজরে আনুন ও নিজে সতর্ক থাকুন।

বি:দ্র: সঙ্গত কারণেই এই অনলাইন খেলাটির নাম গোপন রাখা হলো কারণ খারাপ জিনিসে আমাদের টিনেজদের আসক্তি বেশী!

 

 

 

Share This Post