লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গতি আসবে কবে !

18412mmজুয়েল রাজঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা দাবি করে যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক লীগ গত ২৭ নভেম্বর হাইকমিশন বরাবরে একটা স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল। রাজনৈতিক কারণে স্মারকলিপিটি হাইকমিশনার লাল ফিতায় আটকে আছে বলে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এই বিষয়ে তথ্য জানতে প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান এই সংক্রান্ত কোন তথ্য তাঁর কাছে নেই।

হাইকমিশনার দেশের বাইরে থাকায় সে সময় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ হাই কমিশনের কন্স্যুলার মিনিস্টার টি এম জুবায়ের স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন। টিএম জুবায়ের  জানান ‘হাই কমিশনার ছুটিতে থাকায় আমি স্মারকলিপিটি গ্রহণ করি এবং সঙ্গে সঙ্গেই হাই কমিশনারের টেবিলে পাঠিয়ে দেই। এর পরবর্তী এই বিষয়ে আর কিছু আমার জানা নাই।’

হাই কমিশনার আব্দুল হান্নান জানান স্বেচ্ছাসেবকলীগের স্মারকলিপির বিষয়ে আপনি মিডিয়া ও প্রেসে যোগাযোগ করুন। প্রেসে যোগাযোগের তথ্য জানালে তিনি বলেন, উনি জানবেন না কেন অবশ্যই জানবেন,  কিছু হলে প্রেস মিনিস্টারের কাছ থেকে জানতে পারবেন। আজকে ব্যস্ত আছি আপনি পরে ফোন করুন। স্পর্শকাতর একটি স্মারকলিপির তথ্য জানতে তিনজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে ফোন করেও কোন ধরণের তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদের অফিসিয়ালি বা ব্যক্তিগত উৎসাহেই  হউক ব্রিটেনের মূল ধারায় বাংলাদেশের নানা অর্জন ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করছেন, যা উল্লেখ করার মতো। নিয়মিত  যোগ দিচ্ছেন টিভি অনুষ্ঠান ও সামাজিক অনুষ্ঠানে।

এই গতি নিয়েই চলছে ব্রিটেনে বাংলাদেশের হাইকমিশন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হাইকমিশনার মিজারুল কায়েসের স্থলে যুক্তরাজ্যে যোগ দিয়ে রানী এলিজাবেথের কাছে এক্রিডিশন কার্ড জমা দিয়েছিলেন আব্দুল হান্নান। তবে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী আশানুরুপ কাজ করতে না পারায়, সেই সঙ্গে কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলার  অভিযোগের ভিত্তিতে ৬ মাসের মাথায় আগস্ট মাসের ১৭ তারিখে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র ধরে সরকারের বিদেশি মিশনে বেশ কিছু পরিবর্তনের খবর আসে সংবাদ মাধ্যমে। এরমধ্যে যুক্তরাজ্যে আব্দুল হান্নানকে সরিয়ে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে আসছেন বেলজিয়ামে কর্মরত বাংলাদেশের বর্তমান হাই কমিশনার ইসমত জাহান এই তথ্যটিও ছিল। আব্দুল হান্নান ইতালিতে বদলি হতে পারেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র দফতর সূত্র। বিগত কয়েক মেয়াদেই কূটনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক নিয়োগ প্রাপ্তরা ব্রিটেনে সফল হতে পারেননি। তাই হাই কমিশনের কাজে গতি আনতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলেও তখন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়।

তবে বদলী গেজেট কোনরকমে ঠেকিয়ে রেখে লন্ডনে থাকতে হাইকমিশনার আব্দুল হান্নান মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে। এজন্য শুরুতে যখন ব্রিটেনের বাংলা কমিউনিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাই কমিশনার যাওয়ার মতো মানসম্মত নয় বলে প্রত্যাখ্যান করলেও এখন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন, কমিউনিটি সংগঠন সব কিছুতেই তার উপস্থিতি লক্ষ্য করার মতো। এমনকি বদলী ঠেকাতে ব্রিটেনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আসা আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, এমপি, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কাউকে ধরতে কোন কার্পন্য করছেন না তিনি। বিশ্বস্থ সূত্র নিশ্চিত করেছে আগামী বছরের জুন মাসে অবসরে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ব্রিটেনে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি। বদলীর গতি ঠেকাতে পারলেও হাই কমিশনের কাজের গতি আনতে পারেননি এখনো। হাইকমিশনারের বদলীর ব্যাপারে প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এব্যাপারে আমরা কোন মন্তব্য করতে পারবো না কারণ বিষয়টি আমাদের জানা নেই। বিষয়টি সম্পর্কে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিসিএস-১৯৮৪ (পররাষ্ট্র ক্যাডার) ব্যাচের কর্মকর্তা আবদুল হান্নান ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে হাইকমিশনার হিসেবে যোগ দেন। ওই সময় তিনি লন্ডনে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মিজারুল কায়েসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। লন্ডনে হাইকমিশনার হিসেবে যোগ দেবার আগে আবদুল হান্নান জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সুইজারল্যান্ডের আগে তিনি ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন।

শুরুতে কমিউনিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে বিফল হওয়া অনেকেই হাই কমিশনার আব্দুল হান্নানের নাম আসা মাত্র মজা করে বলেন ‘যেতে বলিয়া লজ্জা দেবেন না’ লন্ডনে বাংলাদেশের যে হাইকমিশনারই আসেন না কেন কোন না কোন চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। হাই কমিশনের বিভিন্ন দিবসে, নির্দিষ্ট কিছু সাংবাদিক ছাড়া অনেক সাংবাদিককেই নিজ থেকে খোঁজ করে দাওয়াতপত্র নিতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। চক্রভেদ করে সকল প্রবাসীর প্রতিনিধি হয়ে উঠতে পারছেন না কোন হাইকমিশনারই। বিসিএস-১৯৮২ (পররাষ্ট্র ক্যাডার) ব্যাচের কর্মকর্তা ইসমাত জাহান ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ব্রাসেলসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রদূত হিসেবে নেদারল্যান্ডসে প্রথম দায়িত্ব পালন করেন ইসমাত জাহান। এরপর তিনি নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তী হাইকমিশনার কতোটা প্রবাসীদের প্রতিনিধি হয়ে উঠতে পারবেন তাঁর অপেক্ষা এখন।

Share This Post